তোলাবাজি করলেই সোজা সাসপেন্ড! বঙ্গ বিজেপির অন্দরে দুর্নীতি রুখতে কড়া বার্তা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের ঠিক তিন মাসের মাথাতেই দলের অন্দরে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে অস্বস্তি বাড়ছে শাসক শিবিরের। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সভাপতির সতর্কবার্তার পর এবার দলীয় নেতা ও কর্মীদের কঠোর বার্তা দিলেন বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতা শহরতলি এবং বারাসত সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। সেই বৈঠকেই সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দলের কোনো কর্মী বা নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি কিংবা দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিললে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সুনীল বনসল অত্যন্ত কড়া ভাষায় কর্মীদের সতর্ক করে নির্দেশ দিয়েছেন যে, এ ধরনের অভিযোগে নাম জড়ালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রথমে শোকজ এবং প্রয়োজনে দল থেকে সরাসরি সাসপেন্ড করা হতে পারে। এমনকি দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না, বরং দলই প্রশাসনকে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে বলবে। সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের সঙ্গে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের ঠিক পরেই রাজ্যে ফিরে সুনীলের এই সাংগঠনিক বৈঠক রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও দলের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ জনসমক্ষে স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, বারবার সতর্ক করার পরেও যদি কেউ সংশোধিত না হন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র তিন মাস আগে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করা নতুন সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে এবং দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সুনীল বনসলের মতো হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষককে সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো যে, অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।