কুঁজো হয়ে বসে কাজ করার অভ্যাস কি আপনার আত্মবিশ্বাস কেড়ে নিচ্ছে? জানুন চাঞ্চল্যকর তথ্য!

আজকাল অফিসে কম্পিউটারের সামনে একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা হোক কিংবা ঘরে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রাখা—অজান্তেই আমাদের ঘাড় ও পিঠ কুঁজো হয়ে আসে। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন যে ভুল ভঙ্গিতে বসার এই অভ্যাসের কারণে কেবল ঘাড়, কাঁধ বা কোমরে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা রীতিমতো চোখ খুলে দিয়েছে। গবেষকদের নতুন দাবি অনুযায়ী, শুধু শারীরিক হাড়গোড় নয়, মানুষ কীভাবে বসে তার ওপর নির্ভর করে তাঁর মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও। বসার ভঙ্গি এবং মানুষের মানসিক অবস্থার মধ্যে যে এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে, তা এই গবেষণায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গবেষকরা এই বিষয়ে একটি পরীক্ষামূলক সমীক্ষা চালান, যেখানে প্রায় ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। তাঁদের দুটি পৃথক দলে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথম দলটিকে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে মেরুদণ্ড টানটান করে বসতে বলা হয়, অন্যদিকে দ্বিতীয় দলটিকে স্বাভাবিকের চেয়ে কুঁজো হয়ে বা সামনের দিকে ঝুঁকে বসতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর দুই দলকেই এমন কিছু জটিল কাজ ও মানসিক পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হয়, যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ঝুঁকি বিচার করতে হয়।
পরীক্ষার ফলাফল থেকে দেখা গেছে, যারা সোজা হয়ে বসেছিলেন, তাঁরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়চেতা ছিলেন। কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা হিসাব করে ঝুঁকি নিতে পেরেছেন এবং তাঁদের মানসিক মনোভাব ছিল সম্পূর্ণ ইতিবাচক। এর বিপরীতে, যারা কুঁজো হয়ে বসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব, মানসিক দ্বিধা এবং নেতিবাচক মানসিকতা প্রবলভাবে কাজ করেছে। তবে বিজ্ঞানীরা এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কেবল সোজা হয়ে বসলেই জীবনের সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বা রাতারাতি সাফল্য আসবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বৃহত্তর পরিসরে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
দীর্ঘক্ষণ একটানা একভাবে বসে থাকা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কাজের ফাঁকে প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অন্তর চেয়ার থেকে উঠে অন্তত কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করা উচিত। কাজ করার সময় পিঠ সবসময় সোজা রাখা, কাঁধ স্বাভাবিক ও শিথিল রাখা এবং ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিন চোখের সমান উচ্চতায় স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এতে মেরুদণ্ডের ওপর অযাচিত চাপ অনেকটাই হ্রাস পায়। এছাড়া নিয়মিত ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ, স্ট্রেচিং এবং সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখার অভ্যাস শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। দৈনন্দিন জীবনের এই ক্ষুদ্র অভ্যাসটি কেবল শারীরিক স্বস্তিই আনে না, বরং মানসিক দৃঢ়তা ও কর্মক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।