তেলের বাজারে চরম আগুন! ৯০ ডলার পার ব্রেন্ট ক্রুড, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আমজনতার পকেটে কি এবার বড় ধস?

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের এক নতুন এবং উদ্বেগজনক উচ্চতায় পৌঁছাল। আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার হু হু করে বেড়ে গিয়েছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম, যা প্রতি ব্যারেলে ৯০ ডলারের ঐতিহাসিক গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিগত বেশ কয়েক মাসের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মূলত আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্তভাবে ভেস্তে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ও পরিবহণে তীব্র বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম অতিসংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণকারী রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ এখন চরমে পৌঁছেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সপ্তাহান্তে ওই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করার সময় তারা চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে দিয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের সঙ্গে চলা এই তীব্র ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে বিগত দু’দিনে মার্কিন বাহিনীর তৃতীয় সদস্যের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন। ইরান ও আমেরিকার এই সরাসরি সংঘাতে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশেও ব্যাপক সামরিক হানার ঘটনা ঘটছে।

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার কথা বললে, দেশ তার মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল সম্পূর্ণভাবে বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ফলস্বরূপ, আন্তর্জাতিক বাজারের এই চরম অস্থিরতার সরাসরি এবং তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারতের বাজারে জ্বালানির দাম একাধিকবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আজকের দিনে (২০ জুলাই) দেশের বিভিন্ন প্রধান মেট্রো শহরগুলিতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা দর অত্যন্ত চড়া পর্যায়ে রয়েছে। মেট্রো শহরগুলিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের বর্তমান দাম যথাক্রমে—হায়দরাবাদে ১১৫.৭৩ টাকা, কলকাতায় ১১৩.৫১ টাকা, মুম্বাইয়ে ১১১.২১ টাকা, বেঙ্গালুরুতে ১১০.৮৯ টাকা, চেন্নাইতে ১০৮.০১ টাকা এবং দিল্লিতে ১০২.১২ টাকা। অন্যদিকে, প্রতি লিটার ডিজেলের বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে—হায়দরাবাদে ১০৩.৮২ টাকা, কলকাতায় ৯৯.৮২ টাকা, চেন্নাইতে ৯৯.৬৬ টাকা, বেঙ্গালুরুতে ৯৮.৮০ টাকা, মুম্বাইয়ে ৯৭.৮৩ টাকা এবং দিল্লিতে ৯৫.২০ টাকা।

অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের এই লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধিই ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। তবে এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের চড়া আবগারি শুল্ক এবং রাজ্য সরকারগুলির ধার্য করা ভ্যাট (VAT), তেল শোধনাগারের প্রক্রিয়াকরণ খরচ, পরিবহণ ব্যয় এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার বিনিময় মূল্যের ক্রমাগত ওঠানামাও দেশের বাজারে তেলের চূড়ান্ত খুচরা মূল্য নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত দ্রুত শান্ত না হলে আগামী দিনে দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে আরও বড় আর্থিক কোপ পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।