‘ছোট দল হয়ে প্রথম সারিতে কেন?’ সুদীপের চরম আপত্তিতেই কি কোণঠাসা অভিষেক? লোকসভার নতুন আসন বিন্যাসে তোলপাড়

রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের রেশ এবার আছড়ে পড়ল সরাসরি জাতীয় সংসদের অন্দরে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন এবং ২০ জন সাংসদের দলবদলের ফলে লোকসভায় ঘাসফুল শিবিরের শক্তি ২৮ থেকে কমে হুড়মুড় করে নেমে এসেছে মাত্র ৮টিতে। আর এই নাটকীয় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জেরে সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই লোকসভায় নিজেদের অত্যন্ত প্রভাবশালী প্রথম সারির আসন খোয়াতে হলো তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর সেই ঐতিহ্যবাহী প্রথম সারির আসন থেকে সরিয়ে এবার সেখানে বসানো হয়েছে প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে, যিনি সদ্য গঠিত নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে এনসিপিআই (NCPI)-এর নেতৃত্বে রয়েছেন।
সংসদীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, অতীতে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় প্রথম সারির আসন দখল করেছিলেন, তখন দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পিছনের সারিতে সরে যেতে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাশা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। এনসিপিআই বর্তমানে এনডিএ জোটের অন্যতম প্রধান শরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় তাদের সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথম সারিতে বসার উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রবিবার বিকেলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই সংক্রান্ত সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখে এনসিপিআই সাংসদদের জন্য নতুন আসন বিন্যাস ও পৃথক ব্লকের অনুমোদন দেন। এর আগেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মাত্র ৮ জন সাংসদ বিশিষ্ট তৃণমূলের মতো একটি ছোট দল কীভাবে প্রথম সারির ভিআইপি আসন পেতে পারে।
সাংসদ সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় তৃণমূলের সামগ্রিক সংসদীয় মর্যাদা এবং লোকসভার আসন বিন্যাসে এই পরিবর্তন যে অনিবার্য ছিল, তা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আগেই অনুমান করেছিলেন। তবে সংসদের অন্দরে অভিষেকের এই আসনাবনমন এবং পিছনের সারিতে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেছে তীব্র জল্পনা। একদিকে সরকারপক্ষের শক্তিশালী এনডিএ জোটের শরিক হিসেবে এনসিপিআই-এর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দাপট এবং অন্যদিকে তৃণমূলের এই চরম শোচনীয় ভরাডুবি আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন এবং জটিল সমীকরণের জন্ম দিতে চলেছে। বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই নজিরবিহীন সংসদীয় রদবদল শাসকদলের অন্দরে যে গভীর হতাশা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে, তা বলাই বাহুল্য।