তৃণমূল ২০৩১ পর্যন্ত থাকবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও ৩০ বছর মুখ্যমন্ত্রী, ভবিষ্যদ্বাণী রচনার

হুগলির তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ২০২৬ নয়, ২০৩১ সাল পর্যন্তও তৃণমূল কংগ্রেসই ক্ষমতায় থাকবে। শুধু তাই নয়, তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও ত্রিশ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। হুগলির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
কী বললেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়?
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রচনা বলেন, মানুষের পাশে থাকতে এবং তাঁদের জন্য কাজ করতে হবে। এর উদাহরণ দিতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে মুম্বইতে থাকে। দু’মাস পর দু’দিনের জন্য বাড়িতে এসেছে। গতকাল রাত দুটোর সময় সে বাড়িতে এসেছে, আর আজ আমি আপনাদের কাছে এসেছি।”
সাংসদ হিসেবে তিনি যে মানুষের পাশে আছেন, সেই বার্তা দিয়ে রচনা বলেন, “আমি রাজনীতির লোক নই। তবে এই ক’দিনে যেটা বুঝেছি, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। তাই আমি সাংসদ হিসেবে আপনাদের পাশে সব সময় আছি। যেকোনো প্রয়োজনে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”
প্রকাশ্যেই সাংসদ-বিধায়ক দ্বন্দ্ব
রচনার এই মন্তব্যের পরই হুগলির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে রচনার সঙ্গে চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারকে দেখা যায়নি। বাণীমন্দির স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি নিয়ে সাংসদ-বিধায়কের দ্বন্দ্বের পর তাঁরা কোনো দলীয় অনুষ্ঠানে একসঙ্গে থাকছেন না বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই দূরত্ব তাঁদের মধ্যকার কোন্দলকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
অন্য বিধায়কদের কটাক্ষ
অন্যদিকে, সপ্তগ্রামের বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত রচনার পক্ষে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “আমার বোন আসছে বলে অনেকের জ্বালাপোড়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “মানুষ থাকলে ধর্ম থাকবে, দল থাকবে, তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে। তাই মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন নেতাকে পেয়েছি।”
জানা গেছে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় চুঁচুড়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এবং বিধায়ক বিরোধী কাউন্সিলরদের ওয়ার্ডের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হয়েছেন। শনিবার বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের বঞ্চনার প্রতিবাদে বিধায়ক অসিত মজুমদার যে পাঁচ কিলোমিটার মিছিল করবেন, সেখানে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন না বলে দলীয় সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে, রচনা ও অসিত মজুমদারের কোন্দল কবে মেটে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।