তৃণমূল হারতেই রাজভবনের ‘খাঁচামুক্ত’ আরএন রবি! দীর্ঘ ৩ বছর পর নয়া সচিব পেলেন রাজ্যপাল

বাংলায় পনেরো বছরের ঘাসফুল শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের দখল নিয়েছে বিজেপি। আর এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ঠিক ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে গেল প্রশাসনিক মহলে বড়সড় রদবদল। মঙ্গলবার সকালেই জানা গেল, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবির নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চলেছেন ২০০২ ব্যাচের অভিজ্ঞ আইএএস আধিকারিক সৌমিত্র মোহন। রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার অব্যবহিত পরেই এই নিয়োগ অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দীর্ঘ তিন বছরের শূন্যতা পূরণ:
রাজভবনের অন্দরে সচিব নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। গত ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তাঁর প্রধান সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই এই পদটি কার্যত অভিভাবকহীন ছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর রাজভবনে কোনও স্থায়ী আমলা নিযুক্ত ছিলেন না। বর্তমান রাজ্যপাল আরএন রবি গত ১২ মার্চ শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই একজন দক্ষ সচিব নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে সেই প্রক্রিয়া থমকে ছিল। অবশেষে ভোট মিটতেই রাজভবনের সেই ‘ডেডলক’ কাটল।

সৌমিত্র মোহনের প্রোফাইল ও বিশেষ তাৎপর্য:
সৌমিত্র মোহন প্রশাসনিক মহলে একজন অত্যন্ত দক্ষ ও নির্ভীক আমলা হিসেবে পরিচিত। গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজ্য পরিবহণ দফতরের সচিব পদে সফলভাবে কাজ করেছেন। মজার বিষয় হলো, এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন রাজ্যের একাধিক দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের বদলি করলেও, সৌমিত্র মোহনকে পরিবহণ দফতর থেকে সরানো হয়নি। এবার তাঁকে রাজভবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে নয়া প্রশাসন।

পুরনো বিতর্কে ইতি:
এর আগে আইএএস নন্দিনী চক্রবর্তীকে ঘিরে রাজভবন ও নবান্নের সংঘাত চরমে উঠেছিল। তৎকালীন রাজ্যপাল আনন্দ বোস তাঁকে ‘শাসকদলের ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে দেগে দিয়ে রাজভবন থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। যদিও পরে নন্দিনী চক্রবর্তী রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ও মুখ্যসচিবের মতো শীর্ষ পদের দায়িত্ব সামলেছেন। সৌমিত্র মোহনের নিয়োগের মাধ্যমে রাজভবন এখন প্রশাসনিকভাবে অনেক বেশি সক্রিয় ও ‘নিস্পক্ষ’ হয়ে উঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবারই তৃণমূলের দুর্গে ধস নামিয়ে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই যখন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রাজনাথ সিংরা বাংলার পরবর্তী মন্ত্রিসভার রূপরেখা তৈরিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই রাজভবনে এই আমলা-রদবদল এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। নয়া সরকারের শপথের আগেই রাজভবনকে প্রশাসনিকভাবে গুছিয়ে নেওয়ার এই তৎপরতা আদতে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ শাসনেরই প্রাথমিক ধাপ কিনা, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy