তৃণমূল নেতা টুলু মণ্ডলের সাম্রাজ্যে ইডি-র থাবা! মহম্মদ বাজারের ভুঁইফোড় সম্পত্তির নথি তলব কেন্দ্রীয় সংস্থার

বীরভূমের মহম্মদ বাজারের বাসিন্দা মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া কোটি কোটি টাকা এবং কেজি কেজি সোনার পাহাড় ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের প্রবল সন্দেহ যে, এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকার প্রকৃত মালিক হলেন প্রভাবশালী ব্যক্তি টুলু মণ্ডল। শুধু তাই নয়, পুলিশি জেরার পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্রের অনুসন্ধানে টুলু মণ্ডলের নামে আরও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। আর এবার এই গোটা আর্থিক দুর্নীতি মামলার গভীরে প্রবেশ করতে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই মামলার সমস্ত এফআইআর কপি, গোপন তথ্য এবং মামলার যাবতীয় আইনি নথি চেয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার হাতে আসা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, টুলু মণ্ডলের নামে একাধিক বেনামি ও বৈধ সূত্র মিলিয়ে প্রায় ২২০ কোটি টাকারও বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পাহাড় রয়েছে। রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে আসার পরই কেন্দ্রীয় এজেন্সি মামলার জাল আরও গুটিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

প্রসঙ্গত, বীরভূমের মহম্মদ বাজারে তল্লাশি চালিয়ে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে যেভাবে নগদ টাকার পাশাপাশি কিলোগ্রাম কিলোগ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল, তাতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনিক মহলেও শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। কীভাবে এত বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া গেল এবং এর নেপথ্যে কোন কোন রাঘববোয়াল যুক্ত রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। আর্থিক তছরুপ ও বেআইনি সম্পত্তি অর্জনের এই ঘটনায় এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ও প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, টুলু মণ্ডল কাণ্ডে আগামী দিনে আরও বড়সড় কোনও আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারে সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করা হচ্ছে।