‘তৃণমূল এখন অতীত অধ্যায়’, বিধানসভায় মমতা-অভিষেককে কড়া আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সময় শেষ হয়ে গেছে এবং এই অধ্যায়টি এখন ‘বন্ধ’। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে তিনি হুঙ্কার ছাড়েন যে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে।

মমতা-অভিষেককে কড়া বার্তা: নাম না করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি আইন আনছি যা রাজনীতিবিদদের বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং নিলাম করার পথ প্রশস্ত করবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আগের সরকারের আমলে রাজ্যের অনেক নেতা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুর্নীতিবাজদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না, তা তিনি যে দলেরই হোন না কেন।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা:

  • অনুপ্রবেশ সমস্যা: রাজ্য থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ১০,০০০ অনুপ্রবেশকারীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অনুপ্রবেশ রোধে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • বিদ্রোহীদের প্রতি হুঙ্কার: তৃণমূলের অন্দরে চলা আধিপত্যের লড়াইকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ভালো মানুষদের তিনি সম্মান করেন, কিন্তু শওকত বা জাহাঙ্গীরের মতো ব্যক্তিদের তিনি কোনোভাবেই ছাড় দেবেন না।

  • রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ: বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এখন নিজেই নিজের ভারে ভেঙে পড়ছে। জনগণের ম্যান্ডেট স্পষ্ট, তাই এই সরকারের ফিরতি পথ আর নেই।

বাজেট অধিবেশনে উত্তাপ: বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশনেই দুর্নীতিবিরোধী নতুন বিল পেশ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা এবং অবৈধভাবে সম্পদ সংগ্রহের বিরুদ্ধে এই কড়া আইন রাজ্যবাসীকে স্বচ্ছ শাসন উপহার দেবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, সরকারি কোষাগারের টাকা সাধারণ মানুষের উন্নয়নে ব্যয় হবে, কোনো রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত সম্পত্তি রক্ষায় নয়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বিধ্বংসী ভাষণে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্বস্তি বাড়ছে, তা তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই নতুন আইন কীভাবে রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে।