তৃণমূলে বড় রদবদল! রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা, অভিষেককে ‘জুগলবন্দি’ দিলেন মমতা

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি পদে নিয়োগ করা হলো চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। একইসঙ্গে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বহাল থাকলেও, তাঁর কাজের পরিধি বা ক্ষমতার রাশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে এবার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হলো দলের দুই পোড় খাওয়া নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনকে।

সাংগঠনিক পরিবর্তনের নেপথ্যে: দলীয় সূত্রে খবর, আসন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে এবং দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামলাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেত্রী। তৃণমূলের এই নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘ভারসাম্য রক্ষার কৌশল’ বলেই মনে করছেন। দীর্ঘ দিন ধরে দলের রাজ্য সভাপতি পদ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নিয়োগের মাধ্যমে তা একপ্রকার স্পষ্ট হয়ে গেল।

অভিষেক ও নতুন সমীকরণ: সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে অভিষেকের নাম বজায় থাকলেও, তাঁর সঙ্গে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করার ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি একক ক্ষমতার বিন্যাস নয়, বরং দল পরিচালনার দায়িত্ব এখন যৌথভাবে বন্টন করা হলো। ডেরেক ও দোলা—উভয়েই নেত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি এই দুই নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসিয়ে দল কার্যত বুঝিয়ে দিল যে, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এবার থেকে বড় ভূমিকা থাকবে তাঁদেরও।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: এই রদবদল তৃণমূলের অন্দরে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করল। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব যেমন রয়েছে, অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বে যুক্ত করে দল ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মজবুত করতে চাইছে।

তৃণমূলের এই নতুন ‘টিম’ ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এই রদবদল যে তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করবে, এমনটাই আশা করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy