তৃণমূলের ভাঙন রুখতে মরিয়া অভিষেক! লোকসভার স্পিকারের ইমেলের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল

দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। একদিকে যখন তৃণমূলের এক বিদ্রোহী সাংসদ গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন, অন্যদিকে সেই বিদ্রোহ রুখতে মরিয়া তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাতের পর অভিষেক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠান অধ্যক্ষের কাছে। সূত্রের খবর, চিঠিতে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে তৃণমূলের কোনো বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে যেন কোনোভাবেই স্বীকৃতি প্রদান না করা হয়। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই এবার লোকসভার স্পিকারের অফিস থেকে একটি ইমেইল পৌঁছল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ জুন, যখন ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকের মাঝেই সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাড়িতে গিয়ে অভিষেকের লেখা চিঠি জমা দেন। বেরিয়ে আসার সময় কীর্তি ও সাগরিকা জানান, তৃণমূলের নাম করে পৃথক কোনো গোষ্ঠী তৈরি করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি। স্পিকার যদি সেই দাবিকে মান্যতা দেন, তবে আইনি লড়াইয়ের পথে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন তাঁরা।
এই চিঠির প্রেক্ষিতেই গত সোমবার দুপুর দুটোর সময় স্পিকার অফিস থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি ইমেইল আসে। সেই ইমেইলে চিঠির বিষয়টি বিশদে জানাতে অভিষেককে একই দিন বিকেলে চারটের সময় অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। কিন্তু ওই একই সময়ে ইডি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডি দপ্তর থেকে বের হতে তাঁর গভীর রাত হয়ে যাওয়ায় সেই সাক্ষাৎ আর সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে মঙ্গলবার, কারণ ডিজে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অভিষেককে হাজিরা দিতে হয়েছে ভবানী ভবনের সিআইডি দপ্তরে।
অভিষেকের পাঠানো চিঠির মূল ভিত্তি হলো দলীয় শৃঙ্খলা। তিনি স্পিকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দলের কিছু সাংসদ নিজেদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের পরিপন্থী। ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ‘সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল’ মামলার রায় তুলে ধরে অভিষেক যুক্তি দিয়েছেন যে, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের লঙ্ঘন ঘটলে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং, এমন কোনো গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিলে তা আইনত ত্রুটিপূর্ণ হবে।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর, স্পিকারের ইমেইলের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী পদক্ষেপ নেন এবং লোকসভার অধ্যক্ষ এই বিবাদের নিষ্পত্তি কীভাবে করেন। তৃণমূলের অন্দরের এই গৃহযুদ্ধ এবং দিল্লি ও কলকাতার এই রাজনৈতিক জটিল সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছে রাজ্য-রাজনীতি।