খাদ্যাভ্যাস থেকে জীবনশৈলী—জাপানিদের অমরত্বের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আসল এবং অজানা রহস্য ফাঁস!

বিশ্বের যে কয়েকটি দেশের মানুষ দীর্ঘতম ও সবচেয়ে সুস্থ জীবন উপভোগ করেন, তাদের মধ্যে জাপান সর্বদা তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাপানি নাগরিকদের গড় আয়ু বিশ্বজুড়ে গবেষকদের কাছে এক বিস্ময়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, কীভাবে এত সহজে শতবর্ষ পার করে ফেলেন এই দেশের মানুষ? কেন জাপানে দীর্ঘায়ু এক সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে? আধুনিক বিজ্ঞান এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় জাপানিদের এই দীর্ঘায়ুর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা একাধিক যুগান্তকারী ও জাদুকরী কারণের সন্ধান মিলেছে।

জাপানিদের এই দীর্ঘ জীবনের প্রধান এবং সবচেয়ে শক্তিশালী চালিকাশক্তি হলো তাদের ঐতিহ্যবাহী সুষম খাদ্যাভ্যাস। জাপানি রন্ধনশৈলীতে তৈরি খাবারগুলো পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং ক্যালোরিতে অত্যন্ত কম হয়। তাদের প্রতিদিনের পাতে নিয়মিতভাবে সামুদ্রিক মাছ, টাটকা শাকসবজি, সোয়াবিনজাত পণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক শৈবাল বা সি-উইড থাকে। এই খাবারগুলিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের প্রাচুর্য থাকে, যা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া, জাপানিদের খাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ প্রাচীন সংস্কৃতি রয়েছে, যা হলো ‘হারা হাতচি বু’ (Hara Hachi Bu)। অর্থাৎ, পেট সম্পূর্ণ ভরার ঠিক আগের মুহূর্তে অর্থাৎ ৮০ শতাংশ খাবার খেয়ে খাওয়া থামিয়ে দেওয়া। এই অভ্যাসটি অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জাপানিদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং মানসিক শৃঙ্খলাও তাদের দীর্ঘায়ুর অন্যতম প্রধান রহস্য। জাপানে ছোটবেলা থেকেই শারীরিক পরিশ্রম এবং হাঁটার অভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এমনকি বয়স্ক মানুষেরাও নিয়মিত সক্রিয় থাকেন এবং কায়িক পরিশ্রমে অভ্যস্ত থাকেন। এর পাশাপাশি, জাপানি সমাজে সামাজিকভাবে মেলামেশা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের এক গভীর সংস্কৃতি রয়েছে, যা মানসিক চাপ বা স্ট্রেস অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে আয়ু কমিয়ে দেয়, আর জাপানিরা এই চাপ খুব সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো এবং মনকে শান্ত রাখার এই প্রাচীন জীবনদর্শনই তাদের জীবনকে দীর্ঘ ও রোগমুক্ত রাখে।