আপনার নামে কতগুলো সিম চালু আছে? কড়া হচ্ছে নিয়ম, বিপদে পড়ার আগেই চেক করুন

সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল বা সিম কার্ড ছাড়া বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন কল্পনা করা অসম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে টেলিকম পরিষেবা পেতে এটি একটি বাধ্যতামূলক মাধ্যম। তবে মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য একটি জরুরি খবর রয়েছে। ভারত সরকারের টেলিযোগাযোগ বিভাগ (DoT) সিম কার্ড সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের কড়াকড়ি আনতে চলেছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও গ্রাহক যদি আগে থেকেই নির্দিষ্ট সীমার বেশি সিম কার্ড নিয়ে থাকেন, তবে টেলিকম কোম্পানিগুলো তাঁকে আর নতুন করে কোনও সংযোগ দেবে না। তাই আপনার নামে বা পরিচয়পত্রে ঠিক কতগুলো সিম কার্ড ইস্যু করা রয়েছে, তা এখনই যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সিম কার্ডের নির্ধারিত সীমা কত?
নিয়ম অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ রাজ্যে একজন ব্যক্তি সর্বাধিক ৯টি সিম কার্ড কিনতে এবং ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কোনও পুরোনো বা অব্যবহৃত নম্বর পাকাপাকিভাবে বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় করা হলে তা এই সীমার মধ্যে ধরা হয় না। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর, অসম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে এই সীমা কিছুটা কম—সেখানে সর্বোচ্চ ৬টি সিম কার্ড রাখার অনুমতি রয়েছে।
কড়া হচ্ছে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া
টেলিকম দফতরের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সিম কার্ড বিক্রির আগে টেলিকম অপারেটরগুলোকে সুনিশ্চিত করতে হবে যে ক্রেতার নামে ইতিমধ্যে কতগুলি সংযোগ সচল রয়েছে। যদি কোনও গ্রাহকের নামে অনুমোদিত সীমার বেশি সিম কার্ড অ্যাকটিভ থাকে, তবে তাঁকে নতুন কোনও সংযোগ দেওয়া হবে না। জালিয়াতি রোধ এবং সাইবার অপরাধের মাত্রা কমাতে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
আপনার নামে কয়টি সিম আছে কীভাবে বুঝবেন?
আপনি যদি নতুন সিম নেওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তবে ঘরে বসেই খুব সহজে সরকারি সঞ্চার সাথী (Sanchar Saathi) পোর্টালের মাধ্যমে তা যাচাই করে নিতে পারেন:
প্রথমে সঞ্চার সাথী পোর্টালের অফিসিয়াল হোমপেজে যান।
পেজের নিচে স্ক্রোল করে ‘Know Mobile Connection in Your Name’ অপশনটিতে ক্লিক করুন।
এরপর আপনার ১০ অঙ্কের মোবাইল নম্বর এবং ক্যাপচা কোডটি নির্দিষ্ট স্থানে দিন।
মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) দিয়ে পোর্টালে লগইন করুন।
নতুন উইন্ডোতে আপনার নামে রেজিস্টার্ড থাকা সমস্ত মোবাইল নম্বরের তালিকা দেখতে পাবেন।
এই তালিকায় যদি এমন কোনও নম্বর দেখতে পান যা আপনি বর্তমানে ব্যবহার করছেন না বা চেনেন না, তবে সঙ্গে সঙ্গে তা নিষ্ক্রিয় করার জন্য রিপোর্ট করতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় বা অজানা নম্বরগুলো সময়মতো ব্লক করে দিলে আগামিদিনে যে কোনও ধরনের আইনি ঝামেলা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।