তৃণমূলের তহবিলে ‘কোটি কোটি’ টাকার রহস্য! ইডির নজরে শাসক দলের গোপন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

সকাল হতে না হতেই রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় ফের বড় চমক। তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিল বিতর্ক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে এবার সরাসরি ময়দানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ৫টি ভিন্ন জায়গায় জোরকদমে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় এই গোয়েন্দা সংস্থা।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, শাসকদলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের রহস্যভেদে তারা কোমর বেঁধে নেমেছে। অ্যাকাউন্টে বর্তমানে কত টাকা রয়েছে, কারা এর মূল সিগনেটরি বা স্বাক্ষরের অধিকারী এবং বিগত দিনে এই অ্যাকাউন্ট থেকে কোথায় কোথায় টাকা লেনদেন হয়েছে—এই সবকিছুই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সল্টলেকের সিজি ব্লকের একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন এলাকাটি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতা, সল্টলেক এবং নিউটাউনের বিভিন্ন ঠিকানায় একযোগে চলছে এই অভিযান।
তহবিল নিয়ে এই জলঘোলা শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগেই। পুলিশ ইতিমধ্যেই এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কে তৃণমূলের নামে থাকা তিনটি অ্যাকাউন্টে ‘ডেবিট ফ্রিজ’ কার্যকর করেছে। তদন্তের মোড় ঘুরছে আরও দ্রুত, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ পাঁচটি শিবিরের বিধায়করা পুলিশের কাছে এই বিষয়ে নিজেদের বয়ান রেকর্ড করিয়েছেন। এছাড়া বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির দায়ের করা পৃথক একটি অভিযোগ অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রম’ সংক্রান্ত ওষুধ কেনাকাটাতেও কোটি কোটি টাকার তছরুপের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ইডি আধিকারিকদের প্রাথমিক ধারণা, এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা পড়েছে, তার উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বেআইনিভাবে কোনো টাকা সেখানে ঢুকছে কি না, কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে কোনো আর্থিক বেনিয়ম হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখাই ইডির মূল লক্ষ্য। গত ১৫ দিন ধরে এই বিষয়ে অত্যন্ত গোপনে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়েছে সংস্থাটি। রাজ্য পুলিশ এই অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে আগেই এফআইআর দায়ের করে তদন্তের পথ প্রশস্ত করেছিল, এবার সেই একই বিষয়ে ইডির সক্রিয়তা শাসকদলের জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বারুইপুরের ঘটনা থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরবন্দি থাকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে, তখন এই আর্থিক তদন্তের মোড় কোনদিকে যায়, সেটাই এখন দেখার। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আজ তল্লাশি থেকে প্রাপ্ত নথি এবং তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, রাজনৈতিক মহলে এই ‘তহবিল তদন্ত’ নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই।