২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে এই হামলার দায় সরাসরি বিজেপির ঘাড়ে চাপিয়েছে, সেখানে উল্টো সুর শোনা গেল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের গলায়। তাঁর দাবি, এই হামলার পেছনে গেরুয়া শিবিরের কোনো হাত নেই; বরং এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ‘ভাগ-বাটোয়ারা’ নিয়ে লড়াইয়ের ফল।
‘অতৃপ্ত আত্মাদের লড়াই’: রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের ২৫ ও ৭৫ ভাগের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে লড়াই। কেউ পেয়েছেন, আর কেউ পাননি। যারা অভুক্ত রয়েছেন, সেই অতৃপ্ত আত্মারা এখন লড়াইয়ে নেমেছেন। তাঁরাই দলের নেতাদের মারছেন।”
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার বহর নিয়েও এদিন নাম না করে কটাক্ষ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, “দিল্লি যাওয়ার সময় আগে বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হতো। তখন তাদের পরিকাঠামো নিয়ে পুলিশরাই ক্ষোভ জানাত। এখন সব দোষ পুলিশের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। কিন্তু ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই হলে পুলিশ কী করবে?”
সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি: রাজ্যের বালি-পাথর সিন্ডিকেট নিয়েও এদিন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে দেখা গেল শমীককে। বিজেপিতে নবাগত নেতাদের সতর্ক করে তিনি স্পষ্ট জানান, “অনেকে ভাবছেন বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েই পুরনো সিন্ডিকেট রাজ চালিয়ে যাবেন। সেটা হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা স্পষ্ট—বেআইনি কাজ বন্ধ করতেই হবে।”
বিজেপির কোনো জনপ্রতিনিধি যদি সিন্ডিকেটকে মদত দেন, তবে দলের তরফ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য।
তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতার ওপর হামলার ঘটনা যখন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে, তখন শমীক ভট্টাচার্যের এই ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দল’-এর তত্ত্ব রাজনৈতিক তরজাকে আরও উসকে দিল। এখন এই দাবির প্রেক্ষিতে শাসকদল কী পাল্টা জবাব দেয়, সেটাই দেখার।





