তৃণমূলের অন্দরে চরম অস্থিরতা! ২১ জুলাইয়ের আগে ‘বালিশ’ কটাক্ষে অস্বস্তিতে ঋতব্রত?

বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। এখন রাজ্যের শাসকদল কার্যত তিনটি শিবিরে বিভক্ত—কালীঘাট শিবির, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং বিক্ষুব্ধ সাংসদদের গোষ্ঠী। এই ডামাডোলের মধ্যেই আগামী ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ফেসবুক ভিডিও বার্তায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে জল্পনার পারদ আরও চড়িয়ে দিলেন।

ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষুব্ধ নেতাদের উদ্দেশে ২১ জুলাইয়ের আগে দল ছাড়ার একটি কঠোর ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা বিরোধী দল বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির চাপে দল ছাড়তে চাইছেন, তাঁরা যেন দেরি না করে বেরিয়ে যান। তবে যাওয়ার আগে যেন দলের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করা না হয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছেন।

মমতার নিশানায় যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অনুগামীরা, তা তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট। মমতা সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, শহিদ পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাঁদের বিজেপির দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই প্রসঙ্গেই রাজনীতির ময়দানে বহুল চর্চিত ‘বালিশ’ প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। দলত্যাগীদের উদ্দেশে তাঁর চাঁচাছোলা মন্তব্য, “বিজেপির স্পনসরড বালিশের দিকে যান, বালিশ পালিশ করতে যান। সেখানে নাকি অনেক টাকা উপহারও দেওয়া হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য সরাসরি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধতেই করা হয়েছে।

দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, সে বিষয়ে মমতা জানান, নাম বা প্রতীক বদলানো যায়, কিন্তু রাজনৈতিক আদর্শ মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ইতিহাস টেনে তিনি দেখিয়েছেন, বহু দল নাম পাল্টালেও আদর্শ টিকে থাকে। আসন্ন ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও প্রশাসনের অতিসক্রিয়তা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সভার প্রস্তুতিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। মমতা প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিক্ষুব্ধদের দলত্যাগ প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ভয় সহ্য করার ক্ষমতা সবার সমান থাকে না, এটি একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস চাপের মুখে মাথা নত করে রাজনীতি করে না—এই বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও তৃণমূল লড়াই চালিয়ে যাবে। ২১ জুলাইকে সামনে রেখে বিভিন্ন শিবিরের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন মমতার এই আক্রমণাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিল।