‘তৃণমূলকে ভাঙা অত সহজ নয়’, দলত্যাগীদের ‘গদ্দার’ বলে তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রায় এক মাস পরেও রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ কমার কোনো লক্ষণ নেই। সোমবার বিকেলে কালীঘাটের বাসভবন থেকে ফেসবুক লাইভে এসে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভয় দেখানোর’ অভিযোগ লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেন যে, ইডি (ED), সিবিআই (CBI) বা গ্রেপ্তারির ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের নেতা-বিধায়কদের গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “যাঁরা দল ভাঙার খেলায় নেমেছেন, তাঁদের বলে দিচ্ছি—আমিও বড় খেলোয়াড়। অপেক্ষা করুন।” তাঁর মতে, যারা সুযোগ বুঝে দলবদল করছেন, তারা দলের ‘অ্যাসেট’ নন, বরং তারা বেরিয়ে যাওয়ায় দলেরই ভালো হয়েছে।

অভিষেক ও কল্যাণ ইস্যুতে সরব মমতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, অভিষেককে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছিল এবং বিজেপি নেতাদের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তৃণমূল কর্মীদের ওপর হেনস্থা ও পুলিশি হয়রানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আপনারা যা করছেন, সাধারণ মানুষ তা ধিক্কার দিচ্ছে। আয়নায় নিজেদের মুখ দেখুন।”

নির্বাচনী কারচুপি নিয়ে পুরনো দাবি ফেসবুক লাইভে ফের একবার নির্বাচনী কারচুপির দাবি তুলে মমতা বলেন, রাজ্যের অন্তত ১৭৭টি আসনে ‘ভোট লুঠ’ হয়েছে। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরসহ তাপস চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের হারের পেছনেও যে ষড়যন্ত্র রয়েছে, সেই অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এত বিপর্যয়ের পরেও তৃণমূল যে হার মানছে না, তা স্পষ্ট করে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা সরকারে আছেন বলে ভেবেছেন সব শেষ? আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।”

হকার উচ্ছেদ ও প্রশাসনিক রদবদল বর্তমান সরকারের হকার উচ্ছেদ নীতি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে মমতা বলেন, মানুষের স্বার্থে তৃণমূল সব সময় লড়াই চালিয়ে যাবে। দলত্যাগীদের ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ‘বেনোজল’ আর না ঢুকতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক বার্তা দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি বিরোধী বিজেপি শিবিরের ওপর চাপ সৃষ্টির এক কৌশল। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব বিজেপি কীভাবে দেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy