‘তুমি এখন ভীষণ বিখ্যাত, গোটা দেশ ভালোবাসে তোমাকে!’ অরুণাচলের ছোট্ট টুইঙ্কলকে নিয়ে দেশজুড়ে কেন এত চর্চা?

অরুণাচল প্রদেশের ছোট শিশু টুইঙ্কলের আত্মমর্যাদাবোধ ও সাহসিকতা সম্প্রতি গোটা দেশের নজর কেড়েছে। কাউকে যখন তাকে ‘চিনা’ বলে কটূক্তি করা হয়, তখন সে বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে মুখের ওপর অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে সে একজন গর্বিত ভারতীয় এবং তারা ইটানগরেই বসবাস করে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সাধারণ মানুষকে যে ধরনের বর্ণবাদী কটাক্ষ ও বিদ্বেষমূলক মনোভাবের মুখোমুখি হতে হয়, তার বিরুদ্ধে একরত্তি এই কন্যার দৃঢ় প্রতিবাদী রূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। ইন্সটাগ্রাম থেকে শুরু করে এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেল—সব জায়গাতেই টুইঙ্কলের এই সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা।
ছোট্ট টুইঙ্কলের এই অসামান্য দেশপ্রেম এবং সাহসী প্রতিবাদের খবর পৌঁছে যায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিশেষ অনুষ্ঠানে ভিডিও কলের মাধ্যমে ছোট্ট টুইঙ্কলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। ভিডিও কলের সেই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অত্যন্ত স্নেহ ও আনন্দের সঙ্গে টুইঙ্কলের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। মন্ত্রীকে ইংরেজি ও হিন্দিতে বেশ সাবলীলভাবে কথা বলতে শোনা যায় এবং তিনি ছোট্ট মেয়েটির বাবা-মায়ের খোঁজখবরও নেন।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে মন্ত্রী টুইঙ্কলকে তার মা ও বাবাকে ক্যামেরার সামনে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। তবে ছোট্ট টুইঙ্কল স্বভাবসুলভ শিশুসুলভ সারল্যে মন্ত্রীর অনেক কথাই পুরোপুরি বুঝতে পারেনি এবং বেশিরভাগ সময়ই সে চুপচাপ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছিল। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু ছোট্ট মেয়েটিকে অত্যন্ত স্নেহের সুরে বলেন, তার মাকে যেন জানিয়ে দেওয়া হয় যে ‘রিজিজু আঙ্কল’ তাকে ফোন করেছিলেন। পাশাপাশি, কারা তাকে অতীতে ‘চিনা’ বলে উত্যক্ত করেছিল, সে বিষয়েও স্নেহের ছলে জানতে চান মন্ত্রী।
ভিডিও কলের একেবারে শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী টুইঙ্কলকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, তার নির্ভীক মনোভাব আজ দেশের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে গেছে এবং গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকে অসম্ভব ভালোবাসে ও তার পাশে রয়েছে। মন্ত্রী সস্নেহে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করেন, সে নিজে কি জানে যে সে এখন কতটা বিখ্যাত হয়ে উঠেছে? উত্তর-পূর্বের মানুষের অধিকার ও সম্মানের পক্ষে দাঁড়ানো এই ছোট্ট কন্যার সাহসিকতা যে জাতীয় স্তরে এক অনন্য বার্তা দিয়েছে, তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই আন্তরিক কথোপকথনেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।