তীব্র উত্তেজনা! উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ, অভিষেকের নিশানায় বিজেপি

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ভোটের দিন থেকেই বিরোধী জোটের ভোট নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি-র বিরুদ্ধে সরাসরি ভোট কেনার অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেকের বিস্ফোরক অভিযোগ
বুধবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি এই নির্বাচনে ‘টাকার বস্তা’ নিয়ে নেমেছিল। তিনি দাবি করেন, “একজন সাংসদের ভোট কিনতে বিজেপি ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা খরচ করেছে।” তাঁর মতে, এভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কলুষিত করে কৃত্রিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করেছে বিজেপি।

মঙ্গলবার উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, এনডিএ প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণন পেয়েছেন ৪৫২টি ভোট, যেখানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রার্থী সুদর্শন রেড্ডি পান মাত্র ৩০০ ভোট। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি অনুযায়ী, রেড্ডি ৩১৫টি ভোট পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি ১৫টি ভোট কম পেয়েছেন। অন্যদিকে, এনডিএ প্রার্থীর ভোট নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ১৫টি বেশি হয়েছে।

বিজেপির পাল্টা জবাব
অভিষেকের এই বিস্ফোরক অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, “হারের মুখে পড়ে অজুহাত খোঁজা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না বিরোধীরা।” তিনি আরও বলেন, বিরোধী জোটের মধ্যেই ভাঙন ধরেছে, যার কারণে ভোটের এই হিসাব মেলেনি।

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল নিয়ে বিরোধী শিবিরের অস্বস্তি এখন প্রকাশ্যে। একদিকে অভিষেক ভোট কেনার অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে বিজেপি ভোটের হিসাব দেখিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই অঙ্কের খেলা আগামী দিনে সংসদে বিরোধী ঐক্যের ভিত কতটা দুর্বল করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।