তারাপীঠের পর এবার খাস কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেলের মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিলে চাঞ্চল্য

তারাপীঠের মর্মান্তিক ঘটনার পর এবার সরাসরি খাস কলকাতার বুকে নেমে এল চরম বিপর্যয়। নিউ মার্কেটের ফ্রি স্কুল স্ট্রিট সংলগ্ন একটি বেসরকারি হোটেলে ঘটা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা শহরজুড়ে। দমকলের সদর দফতরের একেবারে নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত এই হোটেলে আগুন লাগার ফলে এক শিশুসহ মোট ৯ জন নিরীহ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন আবাসিক, যাদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দমকল বাহিনীর অনুমান, হোটেলের বৈদ্যুতিক সুইচ বা শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং নিউ মার্কেট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
এদিকে, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ করেছে কলকাতা পুলিশ। আগুন লাগার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি হোটেলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত সরকারি নিয়মকানুন কঠোরভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে গভীর তদন্ত। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার গভীর রাতে কলকাতা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে এন্টালি মেন মার্কেট এলাকা থেকে পাকড়াও করে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অগ্নিকাণ্ডের পেছনের মূল কারণগুলি খোঁজার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনার নেপথ্য আরও অজানা তথ্য ও পূর্বের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হোটেলের ম্যানেজার এবং অপর এক কর্মীকে আটক করেছে তদন্তকারী দল। অগ্নিকাণ্ডের ঠিক আগের মুহূর্তে হোটেলের ভেতর ও বাইরের পরিবেশ কেমন ছিল এবং কোনওরকম গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁদের দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মতো অত্যন্ত ব্যস্ত ও সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরণের বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের পরিকাঠামো নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক কড়াকড়ির পরেও কীভাবে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল এবং সুরক্ষা প্রোটোকল উপেক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক ও পর্যটকরা। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেন্সিক তদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং আইনি পদক্ষেপ আরও স্পষ্ট হবে।