তারাতলা কাণ্ড: ‘ফিরহাদ সব জানতেন’, তৃণমূলের অন্দরেই কি ফাটল ধরালেন বাম বিধায়ক?

তারাতলার ভয়াবহ দুর্ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, রাজ্যের প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে কাঠগড়ায় তুলে সুর চড়ালেন সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রাণা। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, তারাতলার পরিস্থিতির কথা আগে থেকেই জানতেন ফিরহাদ হাকিম।

শুভেন্দুর অবস্থানে সায় বাম বিধায়কের? তারাতলা দুর্ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতা ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়েছেন ডোমকলের এই বাম বিধায়ক। তবে এখানেই থেমে না থেকে তিনি বলেন, “এই ঘটনার দায় কোনোভাবেই প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এড়াতে পারেন না।” অবাক করা বিষয় হলো, এই ইস্যুতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা পূর্বের মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই যেন ঘুরিয়ে সায় দিয়েছেন রাণা। শুভেন্দুর তোলা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কার্যত ফিরহাদকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছেন।

‘অন্য তৃণমূল’ তত্ত্বে বিস্ফোরক মোস্তাফিজুর বিধানসভায় এদিন নিজের বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান রাণা বলেন, “ফিরহাদ হাকিম সব জানতেন। তিনি যে ‘অন্য’ তৃণমূল বা দলের মধ্যে ভিন্ন ঘরানার—এই তকমা দিয়ে তিনি যেন পার পেয়ে না যান।” অর্থাৎ, দলের ভেতরে নিজের অবস্থান আলাদা দেখিয়ে ফিরহাদ যে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন, তা ধোপে টিকবে না বলেই দাবি বাম বিধায়কের। অপরাধের দায়ভার স্বীকার করে প্রাক্তন মেয়রের উপযুক্ত শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক চাপানউতোর তারাতলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা, তখন বাম বিধায়কের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে সমীকরণ তৈরি করেছে। শাসকদল বা ফিরহাদ হাকিমের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।