তরুণীদের নিয়ে চরম আপত্তিকর মন্তব্য! কঙ্গনা রানাওয়াতের বিরুদ্ধে সোজা লোকসভার স্পিকারের দ্বারস্থ কে?

বলিউড জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং বর্তমানের ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত প্রায়শই তাঁর নানা বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিস্ফোরক বক্তব্যের জেরে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে নেন। এবারও তিনি তাঁর এক অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন, যেটির মূল লক্ষ্য ছিল মূলত আজকের আধুনিক জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্ম। অভিনেত্রী তথা সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত এই নতুন প্রজন্মকে সরাসরি ‘নর্দমা প্রজন্ম’ (Generation Gutter) বলে কটাক্ষ ও উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই অবমাননাকর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জেরে দেশের রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পূর্ণিয়ার স্বতন্ত্র লোকসভা সাংসদ পাপ্পু যাদব কঙ্গনার এই অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে যে, লোকসভার বিরোধী বা নিরপেক্ষ ধারার অন্যতম সাংসদ পাপ্পু যাদব সম্প্রতি লোকসভার মাননীয় স্পিকার ওম বিরলাকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠিতে তিনি দেশের নারী সমাজ এবং বিশেষ করে তরুণীদের অবমাননা করার অভিযোগে কঙ্গনা রানাওয়াতের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি তাঁর অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, গত ২৮শে জুলাই কঙ্গনা রানাওয়াত তাঁর নিজস্ব অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। সেই পোস্টে তিনি দেশের তরুণী সমাজ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে नीट (NEET) বা অন্যান্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় আন্দোলন ও প্রতিবাদকারী ছাত্রীদের সম্পর্কে অত্যন্ত অপমানজনক ও অশালীন মন্তব্য করেছেন। পাপ্পু যাদবের মতে, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির মুখ থেকে এই ধরনের ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সাংসদ পাপ্পু যাদব তাঁর চিঠিতে আরও অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেছেন যে, কঙ্গনা রানাওয়াত যেভাবে দেশের তরুণী ও ছাত্রীদের ‘জেনারেশন গাটার’ বা নর্দমা প্রজন্ম বলে সম্বোধন করেছেন, তা চরম লজ্জাজনক। তিনি তাঁর পোস্টে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিলেন যে, আজকের তরুণীরা নাকি মাদক সেবন, অসামাজিক গুন্ডামি এবং একাধিক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকেই তাদের প্রকৃত স্বাধীনতা বলে মনে করে নেন। পাপ্পু যাদবের মতে, এই ধরনের মানসিকতা এবং মন্তব্য সামগ্রিকভাবে দেশের নারী জাতির সম্মান, মর্যাদা ও আত্মসম্মানের ওপর সরাসরি এক নির্মম আক্রমণ। এটি কেবল একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের পদের শোভনতা ও শালীনতাকেই লঙ্ঘন করে না, বরং দেশের সর্বোচ্চ সংসদীয় প্রতিষ্ঠান লোকসভার মর্যাদাকেও আন্তর্জাতিক বা জাতীয় স্তরে দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ করে। এই কারণে তিনি স্পিকার ওম বিরলার কাছে কড়া আর্জি জানিয়েছেন যে, তিনি যেন অবিলম্বে বিজেপি সাংসদ কঙ্গনার কাছে এই মন্তব্যের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তলব করেন এবং সংসদের অভ্যন্তরীণ নিয়মবিধি মেনে তাঁর বিরুদ্ধে অতিসত্বর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কঙ্গনা রানাওয়াত তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ঠিক কী লিখেছিলেন, তা নিয়েও দেশজুড়ে এখন ব্যাপক চর্চা চলছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন যে, আজকের তরুণী হিন্দু নারীদের সবচেয়ে লজ্জাজনক এবং হতাশাজনক দিক হলো, তারা তথাকথিত স্বাধীন পেশাজীবী নারীদের অন্ধভাবে অনুকরণ করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, প্রকৃত স্বাধীন নারীরা সমাজের গতানুগতিক ধারাকে ভেঙে চুরমার করে দেন, সমস্ত বিদ্রোহী সিদ্ধান্ত নিজেদের কাঁধে নেন এবং নিজেদের জীবন ও কর্মের দায়িত্ব নিজেরাই গ্রহণ করেন। তারা কখনই তাদের বাবা-মা বা পরিবারের কোনো ধরনের ক্ষতি বা অসম্মান করে এই কাজ করেন না, বরং তারা নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই সবকিছু অর্জন করেন।

এরপরই কঙ্গনা এই বিতর্কিত মন্তব্যটি জুড়ে দেন এবং লেখেন যে তিনি এই সমস্ত আধুনিক তরুণীদের ‘নর্দমা প্রজন্ম’ বলে অভিহিত করতে পছন্দ করেন। তিনি তাদের তথাকথিত পাশ্চাত্য ধাঁচে অভ্যস্ত আধুনিক ভারতীয় নারীদের এক সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্ম হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন যে, এরা পড়াশোনায় যেমন একেবারেই ভালো নয়, তেমনই তারা দেখতে বা সুশ্রীও নয়, আর তাদের মানসিকতা তো আরও অনেক বেশি কলুষিত। কঙ্গনার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীরা বলছেন যে, যুবসমাজ ও ছাত্র আন্দোলনকে দমন করতেই এই ধরনের কুরুচিকর আক্রমণ শানানো হচ্ছে।