‘তথ্য লুকিয়েছিল চিন?’ নেপালে প্রলয়কাণ্ডের পরই কাঠমান্ডুর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বেজিংয়ের!

নেপালের হিমালয় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যা এবং তার জেরে সৃষ্ট প্রলয় নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সমস্ত দায় নিতে সরাসরি অস্বীকার করেছে বেজিং। চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, নেপালে যে মর্মান্তিক ধ্বংসলীলা ঘটেছে, তার মূল কারণ চিন নয়, বরং কাঠমান্ডু নিজেই। কাঠমান্ডুতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি জোরালো ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, নেপালে ভূমিকম্প হওয়ার কারণে তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে যে সমস্ত অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। উলটো সুরে চিন দাবি করেছে যে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তারাও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদেরও আড়াইশোর বেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের সন্ধানে বর্তমানে জোরকদমে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

চীনা দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার নেপাল অঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এই ভূমিধসের জেরে চিনের লান্ডে নদী সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে জলপ্রবাহে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, নেপালকে আকস্মিক বন্যার খবর ৪৫ মিনিট দেরিতে দেওয়ার যে গুরুতর অভিযোগ চিনের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল, দূতাবাস সেই প্রসঙ্গটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। চিন জানিয়েছে, লান্ডে নদীতে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার ফলেই জলপথের গতিপথ আমূল পরিবর্তিত হয়ে যায়। এর জেরে চিনের জিরং প্রদেশেও নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। সেখানে প্রায় আড়াইশো মানুষ নিখোঁজ থাকায় তাঁদের উদ্ধারে স্বয়ং চিনের রাষ্ট্রপতি বিশেষ সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছেন। পাশাপাশি, বন্যায় শত শত যানবাহনও জলের তোড়ে ভেসে গেছে বলে জানানো হয়েছে।

এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে চিন ও নেপালের রাজনৈতিক সম্পর্কের পারদ চড়তে শুরু করেছে। নেপালি সংবাদমাধ্যম ‘ই-কান্তিপুর’-এর সূত্র অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি প্রথম তিব্বতের জিরং অঞ্চলেই অনুভূত হয়েছিল এবং তার জেরে ভূমিধস নেমে হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়ে। হিমবাহ ধসে হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে ভাটকোশি হ্রদে অতিরিক্ত জলের ঢল নামে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই এক মারণ রূপ ধারণ করে। বর্তমানে নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭০ ছাড়িয়েছে এবং এক হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেপাল সরকার জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক সহায়তা প্রার্থনা করেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির তদারকি করছেন। এদিকে, নেপালি সংসদের একাধিক সাংসদ প্রকাশ্যেই চিনের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে, বেজিংয়ের সময়মতো সঠিক তথ্য না দেওয়ার কারণেই এই বিপর্যয় এত বড় আকার ধারণ করেছে। এর জবাবে চিনের সাফাই, বর্তমান সময়টি একে অপরকে দোষারোপ করার নয়, বরং একযোগে মানুষের জীবন বাঁচানোর মহৎ কাজে হাত মেলানোর সময়।