ঢাকা কি মৃত্যুফাঁদ? ২০টি ভূমিকম্পপ্রবণ শহরের অন্যতম রাজধানীতে ৫০টিরও বেশি বহুতল ক্ষতিগ্রস্ত, সরকারকে এখনই অ্যাকশনের নির্দেশ!

গত শুক্রবার সকাল থেকে মাত্র ৩২ ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশে পরপর চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই কম্পনগুলিতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা সরকারকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, এটি কেবলই আরও বড় এবং ভয়াবহ কম্পনের পূর্বাভাস। সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মারাত্মক হতে পারে।
শুক্রবার প্রথম ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের একাধিক অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭। এরপর শনিবার সকালে একই সময়ে পরপর তিনটি এবং সন্ধ্যায় আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়।
🏙️ ঢাকার বহুতলগুলিতে ব্যাপক ক্ষতি
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর তথ্য বলছে, এই ভূমিকম্পে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৫০টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৪টি বহুতল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজুকের চেয়ারম্যান মহম্মদ রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত ও উদ্ধারকাজ চলছে।
🚨 ‘সময় থাকতে ব্যবস্থা নিন’: বিশেষজ্ঞদের কড়া হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BUET)-র সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারি জানিয়েছেন, আগামিদিনে আরও মারাত্মক প্রকৃতির ভূমিকম্প হতে পারে। তাঁর মতে,
“আমার ধারণা শুক্রবারের ভূমিকম্প কোনো আরও বড় এবং ভয়াবহ কম্পনের পূর্বাভাস। আমাদের এখন থেকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে বিপজ্জনক বাড়িগুলি খালি করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ করা হলে ক্ষতির পরিমাণ বহুলাংশে কমানো সম্ভব। অধ্যাপক আনসারি আরও মনে করেন, রাজুকের উচিত জনসাধারণের জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করা, যাতে মানুষ জানে এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়।
⚠️ ঢাকা কেন ভূমিকম্পপ্রবণ?
ঘনবসতি এবং প্রচুর সংখ্যক জরাজীর্ণ বাড়ি থাকার কারণে ঢাকা শহর বিশ্বের ২০টি ভূমিকম্পপ্রবণ শহরগুলির অন্যতম। এর আগেও ১৮৬৯ সাল থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে ৫টি ভয়াবহ ভূমিকম্পে ঢাকা কেঁপে উঠেছিল, যার মাত্রা ৭.০-এরও বেশি ছিল।
টেকটোনিক ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলের উপর অবস্থিত। সেসমোলজিস্ট সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, ভারত-মায়ানমার সাবডাকশন জোনে একটি বড়সড় কম্পন ঘটাতে সক্ষম এমন স্ট্রেন ক্রমশ জমা হচ্ছে, যার সম্ভাব্য মাত্রা হতে চলেছে অত্যন্ত বেশি।
উল্লেখ্য, শুক্রবারের ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের নরসিংদী, যা রাজধানী ঢাকার মাত্র ১০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত ছিল। এই কম্পন কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায়ও অনুভূত হয়।