বিহারের অঙ্কে গলদ! ‘ভূত ভোটার’ তত্ত্ব তুলে মমতাকে সরানোর ক্ষমতা বিজেপির নেই বলে দাবি চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর, নির্বাচন কমিশনকে নিশানা!

বছর ঘুরলেই যখন রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করবে, তখন রাজনৈতিক গর্জন তুঙ্গে। বিশেষত বিহার বিধানসভায় নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে এনডিএ-র একপেশে জয়ের পর, বিজেপি ‘এবার বাংলা জয়ের পালা’ বলে যে হুংকার দিয়েছে, তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।

বারাসত বিধানসভার তিনবারের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর সাফ দাবি, যদি নির্বাচন স্বচ্ছ ও অবাধ হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করা বিজেপির পক্ষে অসম্ভব।

🔢 বিহারের ভোটের অঙ্কে ‘ভূত ভোটার’?
বিরোধী শিবিরের তর্জন-গর্জন নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিহার নির্বাচনের এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান সামনে এনেছেন। তিনি বলেন:

“যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, তাতে বিহারে ৭ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটার। তারপর এসআইআর হয়ে অনেক ছাঁটাছাটি হয়েছে। তবে, যে সংখ্যাটা ভোট দিয়েছে, দেখা গেল সেটা ৭ কোটি ৪৫ লাখ হয়ে গেছে! এটা কীভাবে সম্ভব বুঝলাম না! ভোটার যদি ৭ কোটি ৪০ লক্ষ হয়, তাহলে কীভাবে ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ ভোট পড়ল? এই ৫ লক্ষ ভোটার তা হলে কারা? এরা তার মানে ভূত (Ghost) ভোটার!”

🏹 নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা
এই ‘অলীক হিসেব’-এর জন্য সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন বারাসতের বিধায়ক। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ৫ লক্ষ ভোট পড়ার পরে নির্বাচন কমিশন নিজেই ভোটের সংখ্যাটা নামিয়ে ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানায়।

চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর হুঁশিয়ারি:

“যদি এখানেও এরকমভাবে ভোট করে, তা হলেই বিজেপি সফল হবে। এরকম অলীক হিসেব যদি হয়, তা হলেই হয়ত বাংলায় বিজেপি ভোট পাবে। না-হলে বাংলা থেকে মমতাকে সরানোর ক্ষমতা কারও নেই। ওঁর মতো লিডার এই মুহূর্তে কেউ নেই। ওঁর বিকল্পও কেউ নেই।”

📉 দলীয় আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন
উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে বারাসত বিধানসভা ক্ষেত্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে টানা তিনবার জয়ী হয়েছেন চিরঞ্জিত তথা দীপক চক্রবর্তী। তবে সাম্প্রতিককালে সন্দেশখালি, আরজি কর-কাণ্ড এবং নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক ইস্যুতে তিনি দলবিরোধী মন্তব্য করেছেন। এমতাবস্থায়, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ৭০ বছর পেরোনো চিরঞ্জিতকে তৃণমূল টিকিট দেয় কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিহারের জয়ের পর সুশাসন ও উন্নয়নের জয় হয়েছে বলে মন্তব্য করে বলেছিলেন, “এবার বাংলা জয়ের পালা।” কিন্তু চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর এই ‘ভূত ভোটার’ তত্ত্ব এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করার ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।