ড্রোন হামলায় কাঁপছে বিশ্ববাজার, আজ ভারতীয় বাজারে কি চরম অস্থিতিশীলতা?

তিন দিনের ছুটির পর সোমবার ভারতীয় শেয়ার বাজার খোলার দিনেই এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দালাল স্ট্রিটে। বাজার খোলার সময় সেনসেক্স এবং নিফটি—উভয় সূচকেই অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। সেনসেক্স তার আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস ৭৭১০০.৪৭ থেকে কমে ৭৭০৫৫.২১ পয়েন্টে যাত্রা শুরু করে। যদিও পরে শর্ট-কভারিংয়ের কল্যাণে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়ে এটি ৭৭১২৭.৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচক ২৪০৫৬ পয়েন্ট থেকে কিছুটা বেড়ে ২৪০৬১.৭৫ পয়েন্টে খোলে এবং দিনের শুরুতে ২৪০৯৭ পয়েন্টের আশেপাশে লেনদেন করতে দেখা যায়।

বাজারের এই মন্থর গতির পেছনে মূল কারণ হলো হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। জানা গেছে, শনিবার ও রবিবারের মধ্যবর্তী সময়ে মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের উপকূলীয় সামরিক ও রাডার স্থাপনায় পালটা হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার পরেই বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

তেলের বাজারে এই সংঘাতের আঁচ সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত সপ্তাহের ৭১.৬০ ডলারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেলের এই ঊর্ধ্বগতি ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিমান সংস্থাগুলোর ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আজকের এশীয় বাজারগুলোতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ২-৩% পর্যন্ত ধসে পড়েছে এবং জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০.৬-১% লোকসানে লেনদেন করছে। চিনের সাংহাই কম্পোজিট সূচকেও ০.৫% পতন দেখা গেছে। যদিও মার্কিন শেয়ার বাজারের ফিউচারগুলো সামান্য ইতিবাচক প্রবণতা (নাসডাক ১০০ ফিউচার ০.৬-১% বৃদ্ধি) দেখাচ্ছে, তবে সামগ্রিক বিশ্ব পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ হলো, বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং বাজারের যেকোনো বড় পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা।