ড্রোন বা থার্মাল ক্যামেরা কিছুই ধরতে পারবে না! ভারতের রণকৌশলে যুক্ত হচ্ছে ‘অদৃশ্য’ জোরাভার ট্যাঙ্ক

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ভারতের সামরিক শক্তি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ২৫ টনের ‘জোরাভার’ (Zoravar) লাইট ট্যাঙ্ক এবার সজ্জিত হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘অ্যাডাপ্টিভ থার্মাল ক্যামোফ্লেজ’ সিস্টেমে। এর ফলে যুদ্ধের ময়দানে এই ট্যাঙ্ক কার্যত হয়ে উঠবে ‘অদৃশ্য’।

কী এই প্রযুক্তি? ডিআরডিও (DRDO) এবং লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ট্যাঙ্কে বিশেষ ফ্লেক্সিবল অ্যাডাপ্টিভ থার্মাল ক্যামোফ্লেজ প্যাড লাগানো হচ্ছে। এই প্যানেলগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ট্যাঙ্কের বাইরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রাকে চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে সক্ষম। ফলে শত্রু ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরা বা ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সরে এই ট্যাঙ্কটিকে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কেন এটি গেম-চেঞ্জার?

  • থার্মাল সিগনেচার নিয়ন্ত্রণ: সাধারণত বরফাবৃত এলাকায় ট্যাঙ্কের ইঞ্জিন গরম হওয়ার কারণে তা থার্মাল ক্যামেরায় সহজেই ধরা পড়ে। এই সিস্টেম সেই তাপমাত্রাকে পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে (পার্থক্য ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখা) শত্রুকে বিভ্রান্ত করবে।

  • সীমান্ত সুরক্ষা: বিশেষভাবে লাদাখ ও উত্তর সীমান্তের দুর্গম অঞ্চলের কথা মাথায় রেখেই এটি নকশা করা হয়েছে।

  • চিনের টাইপ-১৫-এর সাথে টক্কর: চিনের সমকক্ষ বা তার চেয়েও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে ভারত সীমান্তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চলেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জোরাভার লাইট ট্যাঙ্কে এই প্রযুক্তির সংযোজন আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে এক অনন্য কৌশলগত সুবিধা (Strategic Advantage) প্রদান করবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy