ডেঙ্গু-ক্যানসারের যম! ৫ দিনের আয়ুর প্লেটলেট বাঁচাতে পারে প্রাণ, আপনি সচেতন তো?

হাসপাতালের করিডোরে এক অসহায় পিতার উদ্বেগের প্রহর গোনা—ডেঙ্গি আক্রান্ত কন্যার প্লেটলেট মাত্রাতিরিক্ত হারে কমছে। এমন দৃশ্য আমাদের রাজ্যের হাসপাতালগুলোতে অত্যন্ত পরিচিত। ডেঙ্গি থেকে ক্যানসার, জীবনমরণ লড়াইয়ে ‘প্লেটলেট’ আজ অসংখ্য মানুষের শেষ ভরসা। তবে জানেন কি, এই অতি প্রয়োজনীয় উপাদানের আয়ু মাত্র ৫ দিন?
প্লেটলেট আসলে কী? কেন এটি এত জরুরি? চিকিৎসকদের মতে, প্লেটলেট হলো রক্তের এমন একটি উপাদান যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। শরীরের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. দীপঙ্কর সরকারের কথায়, “প্লেটলেটের সংখ্যা যখন বিপজ্জনক হারে কমে যায়, তখন অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। যা রোগীর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।”
ডেঙ্গি মানেই কি প্লেটলেট ট্রান্সফিউশন? জনমানসে ডেঙ্গি হলেই প্লেটলেট দেওয়ার যে আতঙ্ক কাজ করে, তাকে ‘ভুল ধারণা’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ডা. সরকার স্পষ্ট করেছেন, “শুধুমাত্র প্লেটলেট কমে গেলেই তা দেওয়া হয় না। সাধারণত প্লেটলেটের মাত্রা ১০ হাজারের নিচে নামলে বা রোগীর সক্রিয় রক্তক্ষরণ থাকলে তবেই চিকিৎসকরা প্লেটলেট ট্রান্সফিউশনের সিদ্ধান্ত নেন।” অহেতুক প্লেটলেট চড়ানোর প্রবণতা কমিয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জই আসল বাধা প্লেটলেট নিয়ে সবথেকে বড় সমস্যা হলো এর সীমিত স্থায়িত্ব। সংগৃহীত হওয়ার পর মাত্র ৫ দিন এটি কার্যকর থাকে। তাই নিয়মিত রক্ত ও প্লেটলেট দান জরুরি। বর্তমানে আধুনিক ব্লাড ব্যাংকগুলোতে ‘কম্পোনেন্ট ট্রান্সফিউশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে বিশেষ প্রযুক্তির (প্লেটলেট সেপারেটর) মাধ্যমে রক্তের উপাদানগুলোকে আলাদা করা হয়। এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সঠিক তাপমাত্রায় এটি সংরক্ষণ করা বড় চ্যালেঞ্জ।
সচেতনতার ডাক বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে চিকিৎসকদের একটাই বার্তা—কেবল স্বেচ্ছায় রক্তদান নয়, প্লেটলেট দান সম্পর্কেও সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং অযথা আতঙ্কিত না হয়ে পরোপকারে এগিয়ে আসতে হবে।
আপনার এই সামান্য উদ্যোগই হয়তো কাল কারো জীবনের শেষ ভরসা হয়ে উঠতে পারে। ৫ দিনের ক্ষুদ্র আয়ু নিয়েও প্লেটলেট বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এক অজেয় শক্তি। এই লড়াইয়ে শামিল হোন আপনিও।