ডুয়ার্সে সরকারি জমিতে রিসর্ট! ভাঙার নির্দেশ প্রশাসনের, চাপে তৃণমূল নেতার প্রাক্তন সচিব

ডুয়ার্সের পর্যটন মানচিত্রে এবার বড়সড় প্রশাসনিক অভিযান। নদীর চর ও সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা একটি বিলাসবহুল রিসর্ট খালি করার নির্দেশ দিয়েছে মেটেলি ব্লক প্রশাসন। জলপাইগুড়ির মেটেলি ব্লকের গোয়ালডাঙা গ্রামে অবস্থিত এই রিসর্টটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কী অভিযোগ? অভিযোগ, নদীর গতিপথ ও সরকারি খাস জমি দখল করে নীল মালাকার নামের এক ব্যক্তি এই বিলাসবহুল রিসর্টটি তৈরি করেছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, রিসর্টের এই মালিক অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা তথা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করতেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দিয়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে রিসর্টের সমস্ত আসবাব ও সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলতে হবে। ১১ জুলাই থেকে প্রশাসন এই রিসর্টের দখল নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু করবে।
রাজনৈতিক বিতর্ক: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি নেতা দীপঙ্কর ধর অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের আমলে স্থানীয় নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদতেই ডুয়ার্সজুড়ে একের পর এক বেআইনি রিসর্ট গড়ে উঠেছে। তার দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বড় সিন্ডিকেটের অংশ। অন্যদিকে, রিসর্টের কেয়ারটেকার দাবি করেছেন রিসর্টটি অবৈধ নয়, তবে প্রশাসনের নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।
পর্যটন মহলে উদ্বেগ: লাটাগুড়ি ও মূর্তি সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের পর অন্যান্য রিসর্ট ও হোটেল মালিকদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অতীতেও কয়েকবার বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেই নির্মাণগুলো ফের সম্প্রসারিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বর্তমান সরকারের আমলে এই অভিযান কি শুধুমাত্র একটি রিসর্টে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ডুয়ার্স জুড়ে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ কাঠামোর বিরুদ্ধে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে?
এখন ১১ জুলাইয়ের দিকে তাকিয়ে গোটা ডুয়ার্স পর্যটন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা।