ডিসেম্বরে ঠান্ডা মিললেও কতদিন টিকবে শীত? এল নিনো নিয়ে এলটেস্ট আপডেট

দেশে জাঁকিয়ে বসেছে সুপার এল নিনো, যার জেরে এবার দেশের আবহাওয়া ও আসন্ন শীতকালের উপর পড়তে চলেছে মারাত্মক প্রভাব। চলতি বছর ঠিক কবে থেকে ঠান্ডা পড়বে এবং শীতকাল ঠিক কতদিনই বা স্থায়ী হবে, সেই বিষয়ে চরম আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ ড. সুজীব কর।
এল নিনোর সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. সুজীব কর জানান, সুপার এল নিনোর প্রভাব একটানা ৭ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে উষ্ণ মহাসাগরীয় স্রোত বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করার ফলে জলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর জেরে জলের প্রচুর বাষ্পীভবন ঘটে এবং জলভাগের ওপর ঘন ঘন নিম্নচাপ তৈরি হতে থাকে, যা জলভাগ থেকে স্থলভাগে শীতল বায়ুর প্রবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম দেশ এমন দীর্ঘমেয়াদী সুপার এল নিনোর মুখোমুখি হয়েছে, যার জেরে অতীতে উড়িষ্যার মতো রাজ্যে ভয়াবহ সাইক্লোন ও বন্যার ইতিহাসও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদের মতে, স্বাভাবিক অবস্থায় স্থলভাগে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প প্রবেশ না করলে বৃষ্টি কমে যায়। ফলে ভূমিভাগ যে তাপ শোষণ করে, তা সঠিকভাবে বিকিরণ বা রেডিয়েট করতে পারে না। তাপ ভূমিভাগের ভেতরেই আটকে থাকার কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই শীতের আগমন বিলম্বিত হতে থাকে। চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে সক্রিয় হওয়া সুপার এল নিনো সেপ্টেম্বর মাসে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ ধারণ করবে। এর ফলে উত্তর ভারত অভিমুখে স্বাভাবিক শীতল বায়ুপ্রবাহ বাধা পাবে এবং জেট বায়ুও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে।
ড. সুজীব করের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের আকর্ষণে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে কিছু পরিমাণে শক্তিশালী শীতল বায়ু প্রবেশ করতে পারে। তবে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পেতে পেতে ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ গড়িয়ে যাবে। কিন্তু সুখবর এই যে, সেই ঠান্ডা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। বড় জোর ১৫ থেকে ২০ দিন ভালো ঠান্ডা পাওয়ার পরেই শীতের আমেজ উধাও হয়ে দ্রুত চত্বরে নেমে আসতে পারে চড়া গরম বা গ্রীষ্মকাল।