ডিটেনশন সেন্টারের ধাঁচে রাজ্যের হোল্ডিং সেন্টার! অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কী কী ব্যবস্থা থাকছে?

রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল স্বরাষ্ট্র দপ্তর। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এবার তৈরি করা হচ্ছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং নির্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের এই কেন্দ্রগুলিতে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে।

কোথায় কোথায় চালু হলো এই সেন্টার?
ইতিমধ্যেই রাজ্যের সীমান্ত লাগোয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এই হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং তা কার্যকারও শুরু করেছে। মালদার ইংরেজবাজার এবং মুর্শিদাবাদের লালগোলায় পুরোদমে চালু হয়েছে এই প্রক্রিয়া। লালগোলার বাহাদুরপুর পঞ্চায়েত সংলগ্ন পদ্মা ভবনের তিনতলায় তৈরি সেন্টারে বর্তমানে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, মালদার ইংরেজবাজারের বাগবাড়ি চন্দনপার্কে অবস্থিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বিপণন কেন্দ্রের আধুনিক ভবনে তৈরি হয়েছে অপর একটি সেন্টার। সেখানে আপাতত ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক—তিনজন মহিলা এবং ছয়জন শিশু ও কিশোরকে রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা
ইংরেজবাজারের হোল্ডিং সেন্টারে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রয়েছে। রাতের অন্ধকারে এলাকা আলোকিত রাখতে বসানো হয়েছে শক্তিশালী হ্যালোজেন লাইট। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ আধিকারিক, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।

আটক ব্যক্তিদের মানবিক অধিকারের বিষয়টি মাথায় রেখে জেলা ও সিভিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে থাকা-খাওয়ার উন্নত বন্দোবস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা রান্নার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে চারবার ভাত, রুটি, মাছ, মাংস ও ডিমের ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে দুধ এবং বেবি ফুডের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও পরিচ্ছন্নতার জন্য নতুন পোশাক, সাবান ও শ্যাম্পু প্রদান করা হচ্ছে।

কার্যপদ্ধতি ও আইনি প্রক্রিয়া
এই কেন্দ্রগুলি মূলত ডিটেনশন সেন্টারের আদলে কাজ করবে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বিএসএফ যখনই চাইবে, তখনই ধৃতদের তাদের হেফাজতে হস্তান্তর করা হবে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই কেন্দ্রগুলিতে থাকা ব্যক্তিদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করা হবে। তাদের নাগরিকত্ব এবং নথিপত্র যাচাই করবেন জেলাশাসক বা সমতুল্য পদমর্যাদার কোনো আধিকারিক। নাগরিকত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর, অবৈধ অভিবাসীদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে নির্বাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

রাজ্যের এই পদক্ষেপ অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। অনুপ্রবেশ রুখতে এই ‘হোল্ডিং সেন্টার’ ব্যবস্থা আগামী দিনে আরও কয়েকটি জেলায় কার্যকর করা হতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy