ডাক্তারি প্রবেশিকায় তুমুল কেলেঙ্কারি! ফের পরীক্ষার মাঝেই ফাঁস প্রশ্নপত্র

দেশজুড়ে ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই ফের চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে গেল। কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে পরীক্ষা সংশোধনী বিল পাশ করিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও কাটছে না জট। এবার একেবারে স্নাতকোত্তর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওড়িশার এই ঘটনায় চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে ফের হাজারো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, গত ২৭ জুলাই ‘অল ওড়িশা মেডিক্যাল পিজি এগজামিনেশন’-এর জেনারেল সার্জারি থিওরির দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলছিল। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হল, পরীক্ষা চলাকালীনই হোয়াটসঅ্যাপ সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্রের ছবি হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পড়ুয়াদের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমেই মূলত প্রশ্নপত্রটি বাইরে চলে আসে বলে খবর মিলেছে। শুধু তাই নয়, প্রশ্ন ফাঁসের পাশাপাশি বিভিন্ন অচেনা ফোন নম্বর থেকে পরীক্ষার্থীদের কাছে সুনির্দিষ্ট উত্তরপত্রও পৌঁছে যায়, যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ‘ওড়িশা ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস’-এর উপাচার্য মানসরঞ্জন সাহু তড়িঘড়ি রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। যদিও এমকেসিজি (MKCG) মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের ডিন তথা অধ্যক্ষ হরেকৃষ্ণ দলাই সরাসরি ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’ তকমা মানতে নারাজ। তাঁর আজব যুক্তি, “একে প্রশ্নপত্র ফাঁস বলা চলে না। পরীক্ষা শুরুর আগে যদি প্রশ্নপত্র বাইরে আসত, তবে তাকে ফাঁস বলা যেত। এক্ষেত্রে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর থেকেই প্রশ্ন বাইরে চলে গিয়েছে। যদিও পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল, তা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল এবং কোন হাই-টেক গ্যাজেট ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।”
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই থেকে ২০২৩-‘২৬ ব্যাচের এই পিজি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। আগামী ১ এবং ৫ আগস্ট এই পরীক্ষাগুলির পরবর্তী সূচি রয়েছে। এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে প্রশ্ন ফাঁসের এই ঘটনা সামনে আসায় গোটা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গভীর কালো ছায়া নেমে এসেছে। ওড়িশা ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস-এর পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভুবনেশ্বরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের এক পড়ুয়া দাবি করেছেন যে, পরীক্ষা চলাকালীনই তিনি হোয়াটসঅ্যাপ মারফত প্রশ্নপত্রের ছবি হাতে পেয়েছিলেন এবং কিছু নির্দিষ্ট নম্বর থেকে উত্তরপত্রও তাঁর কাছে এসে পৌঁছায়।