ডলারের পতন, রুপির উত্থান! ৯৭-এর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় মুদ্রা

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারতের মুদ্রা রুপি এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বিশ্ববাজারে ইরানের মুদ্রার পরেই রুপি সবচেয়ে বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। ৯৭-এর কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার পর ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশঙ্কার মেঘ জমেছিল। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত দুই দিনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে রুপি এমন এক দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে, যা অর্থনীতিবিদদেরও অবাক করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ৫০ পয়সা বৃদ্ধির পর, শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রুপির দর বৃদ্ধি পেল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুই দিনে রুপির দর প্রায় ৭০ পয়সা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধারা বজায় থাকলে আগামী দিনে রুপি আরও অন্তত ১ টাকা পর্যন্ত শক্তিশালী হতে পারে।

শুক্রবার দিনের শুরুতে অপরিশোধিত তেলের দামে সামান্য পতন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত এবং রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর সক্রিয় হস্তক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর ১৮ পয়সা বেড়ে ৯৬.১৮-তে দাঁড়িয়েছে। ফরেক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্য বাজারকে অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার ইতিবাচক সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর ইঙ্গিত শেয়ার বাজার ও মুদ্রা বাজারে এক ধরনের স্থিতিশীলতা এনেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম কমে ১০৪ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি চলে আসায় রুপির ওপর চাপের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

মুদ্রা বাজারের লেনদেনে শুক্রবার ডলারের বিপরীতে রুপি ৯৬.৩০-এ যাত্রা শুরু করে এবং দ্রুত তা ৯৬.১৮-তে পৌঁছায়। আগের দিন বৃহস্পতিবার বাজার ৯৬.৩৬-এ বন্ধ হয়েছিল। সিআর ফরেক্স অ্যাডভাইজারস-এর এমডি অমিত পাবারি জানান, রুপির এই উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হলো আগামী ২৬শে মে আরবিআই-এর প্রস্তাবিত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্রয়-বিক্রয় সোয়াপ নিলাম। এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রুপির তারল্য বৃদ্ধি করবে এবং মুদ্রার অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আরবিআই-এর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বৈশ্বিক অস্থিরতার মুখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই আগাম প্রস্তুতি বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।

অন্যদিকে, ডলার সূচক (যা ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি পরিমাপ করে) ০.০১ শতাংশ কমে ৯৯.২৪-এ নেমে এসেছে। দেশীয় শেয়ার বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সেনসেক্স ৩৩২.৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ৭৫,৫০৭.০৯ পয়েন্টে এবং নিফটি ৮৪.৬০ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৭৪৭.৪০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। যদিও বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা গত বৃহস্পতিবার ১,৮৯১.২১ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছেন, তবুও বাজারের সার্বিক তেজিভাব বজায় রয়েছে।

রুপির ভবিষ্যৎ নিয়ে পাবারি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তিনি জানান, আরবিআই-এর সহায়তা বা ইতিবাচক বৈশ্বিক খবর ছাড়া এই মুদ্রাজোড়া আবারও ৯৭.০০ স্তরের দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ। তবে সামগ্রিক প্রবণতা বদলের জন্য রুপিকে ধারাবাহিকভাবে ৯৪.৮০ স্তরের নিচে ক্লোজিং দিতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি (CAD) নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কাজ করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy