‘ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যা’, শপথের ৪ দিন আগে প্রিয় পাত্রকে হারিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু!

বাংলায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে এবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার রাতে নৃশংসভাবে খুন হলেন হবু মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ও আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। ৯ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের ঠিক চারদিন আগে এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
বুধবার রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার সময় মধ্যমগ্রামের জনবহুল রাস্তার ওপর চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গাড়ি লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় চন্দ্রনাথকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় তাঁর গাড়ির চালকও গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। প্রিয় নেতাকে হারিয়ে হাসপাতালের বাইরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, অগ্নিমিত্রা পাল এবং রুদ্রনীল ঘোষের মতো শীর্ষ বিজেপি নেতারা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছান রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা।
শোকাতুর ও ক্ষুব্ধ শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, “এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।” বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ভবানীপুর থেকে শুরু করে প্রতিটি নির্বাচনে চন্দ্রনাথ ছিল শুভেন্দুর প্রধান সেনাপতি। একজন সক্রিয় কর্মীকে এভাবে হারিয়ে ফেলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এর বিচার চাই।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার গঠনের ঠিক আগে এই ঘটনা বিরোধী শিবিরের ওপর বড়সড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির চেষ্টা কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।