বিশ্বের শক্তির বাজারে ফের আশঙ্কার কালো মেঘ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন এক অত্যন্ত কঠোর ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর দেওয়া অস্থায়ী ছাড় (waiver) আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। এই ছাড়ের ফলেই ভারতসহ বেশ কিছু দেশ এতদিন সীমিত পরিমাণে তেল কিনতে পারত। আমেরিকার এই একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের জোগান ও দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারতের ওপর প্রভাব: শক্তি সুরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ?
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে ভারত রাশিয়ার থেকে সস্তায় প্রচুর অপরিশোধিত তেল আমদানি করে নিজেদের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিল। ২০২৬-এর মার্চ মাসেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা তিনগুণ বাড়িয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার এই নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারতের সামনে বিকল্প পথ কমে আসছে। যদি সস্তার তেল আসা বন্ধ হয়, তবে দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ভারতের শক্তি কৌশল এখন এক বড় পরীক্ষার মুখে।
হরমুজ প্রণালী ও জোগান শৃঙ্খলে বিপদ
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) সাম্প্রতিক উত্তেজনা। বিশ্বের প্রায় ২০-২৫ শতাংশ তেল এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। ইরান যদি এই পথ অবরোধ করে, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে সুনামি বয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক সমীকরণও দ্রুত পাল্টাচ্ছে; এমনকি পাকিস্তানও এখন ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ইঙ্গিত যে তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবেন না, তা বিশ্ববাজারে আগুন লাগাতে পারে। ভারত এখন ৪০টি দেশ থেকে তেল কেনার কথা বললেও, আদতে রাশিয়া ও ইরানের বিকল্প খুঁজে পাওয়া এবং আমদানি বিল নিয়ন্ত্রণ করা আগামী মাসগুলিতে মোদি সরকারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।





