টেক জায়ান্টদের রদবদল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফটের মতো সংস্থা কি এবার কানাডা, ভারত বা চিনের দিকে ঝুঁকবে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দক্ষ কর্মীদের জন্য জনপ্রিয় এইচ-১বি ভিসার ফি এক লাখ ডলার নির্ধারণের ঘোষণা করায় প্রযুক্তি ক্ষেত্র-সহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরাট পরিবর্তনের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রযুক্তি ক্ষেত্র প্রভাবিত হলেও, এই পরিস্থিতিতে বিদেশি কর্মীদের জন্য নিজেদের দরজা খুলে দিচ্ছে কানাডা, যা ভারতীয়দের উপর উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলবে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী ভারতীয় কর্মীরা। গত বছর ভারত থেকে ৭১ শতাংশ আবেদন মঞ্জুর হয়েছিল, যা ভিসানীতির এই পরিবর্তনে ভারতীয় নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
মার্কিন বিমুখ কর্মীদের টানতে মরিয়া কানাডা
ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি পরিবর্তনের ফলে যে সব দক্ষ কর্মী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমুখ হচ্ছেন, তাদের টানতে আগ্রহী কানাডা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁর সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
শনিবার লন্ডনে সব্জিবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্নি বলেন, “এবার স্পষ্ট হলো যে, যারা আগে তথাকথিত এইচ-১বি ভিসা পেয়েছেন, তাদের আকর্ষণ করার সুযোগ।” তিনি জানান, এই কর্মীরা অনেকেই প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আছেন এবং তারা কাজের জন্য অন্যত্র যেতে আগ্রহী। বর্তমানে কানাডিয়ান সরকার এই ধরণের প্রতিভাকে কাছে টানার চেষ্টা করছে।
কানাডা ভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী ইভান গ্রিন এই পরিস্থিতিকে ‘কানাডা সরকারের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ’ বলে অভিহিত করেছেন। অতীতেও নজির দেখা গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখনই দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন নীতি কঠিন করেছে, বহুজাতিক সংস্থাগুলি প্রতিভা ধরে রাখতে কানাডা, ভারত বা চিনের দিকে ঝুঁকেছে।
টেক জায়ান্টদের কৌশলগত পরিবর্তন
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি অবাক হয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামাজন.কম ইন, মাইক্রোসফট কার্প, আলফাবেট ইন-এর মতো টেক জায়ান্টরা মার্কিন ফি এড়িয়ে কানাডার প্রধান শহরগুলিতে কর্মী নিয়োগ ত্বরান্বিত করতে পারে।
ভ্যাঙ্কুভার ও টরন্টোতে অফিস: অ্যামাজনের ভ্যাঙ্কুভার এবং টরন্টোর টেক হাবগুলিতে এক বছর আগে পর্যন্ত ৮,৫০০-এরও বেশি কর্মী ছিল। এপ্রিল পর্যন্ত মাইক্রোসফটের ভ্যাঙ্কুভারের একটি ডেভেলপমেন্ট হাবে ২,৭০০ কর্মী ছিল।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এইচ-১বি ভিসাধারীরা এতে প্রভাবিত হবেন না, তবে এই পরিবর্তনে উচ্চশিক্ষিত বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের নতুন সুযোগ সীমিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।