স্থপতি বি.ভি. দোশীর স্মরণে রাজকুটিতে বিশেষ প্রদর্শনী, প্রদান করা হল মর্যাদাপূর্ণ প্রবীর মিত্র মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড!

অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের উদ্যোগে কলকাতার স্বভূমির ‘রঙ্গমঞ্চ’-এ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘বি.ভি. দোশি মেমোরিয়াল এক্সিবিশন’-এর তৃতীয় সংস্করণ। ভারতের প্রথম প্রিৎজকার পুরস্কারজয়ী কিংবদন্তি স্থপতি বালকৃষ্ণ ভি. দোশীর দীর্ঘস্থায়ী এবং অনন্য অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতেই এই বিশেষ বার্ষিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শ্রেষ্ঠত্ব, সততা এবং সমাজের সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততা বজায় রেখে যাঁরা স্থাপত্যশিল্পকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, তাঁদের স্বীকৃতি জানানোর যে ধারা অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপ বরাবর বজায় রেখে চলেছে, তারই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রদর্শনীতে ‘MADe’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান স্থপতি মধুসূদন চালাসানীর নান্দনিক কাজও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গত শনিবার এই জমকালো অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে।
এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রী হর্ষবর্ধন নেওটিয়া বলেন, “বি.ভি. দোশি মেমোরিয়াল এক্সিবিশন আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র একজন অসাধারণ স্থপতিকে স্মরণ করা নয়, বরং তাঁর অনুপ্রেরণায় শুরু হওয়া সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং আলোচনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এবারের প্রদর্শনী এবং ‘প্রবীর মিত্র মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’-এর মাধ্যমে আমরা এমন এক স্থাপত্যশৈলীকে উদযাপন করছি, যা মানুষকে তার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে। পাশাপাশি জনপরিসরের সঙ্গে চিন্তাশীলভাবে সম্পৃক্ত হয়ে সমাজে এক অর্থবহ অবদান রাখে।”
‘ইন পারস্যুট অফ পাবলিকনেস’ বা জনসাধারণের অনুসরণে শিরোনামের এই প্রদর্শনীটি স্থাপত্যকে মানুষের সমষ্টিগত জীবনের একটি মূল কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করেছে। মধুসূদন চালাসানি এবং ‘মেইড’ (MADe)-এর দীর্ঘদিনের গবেষণালব্ধ রূপ এখানে ফুটে উঠেছে। বাস্তবায়িত ও অবাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প, নিখুঁত নকশা, ত্রিমাত্রিক মডেল এবং গবেষণার মাধ্যমে প্রদর্শনীটি এমন এক বিষয়কে অন্বেষণ করে, যেখানে স্থাপত্য কীভাবে উন্মুক্ত ও অভিযোজনক্ষম স্থান তৈরি করতে পারে তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। স্থপতি মধুসূদন চালাসানি তাঁর বক্তব্যে জানান, এই প্রদর্শনীটি তাঁর দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের পরিশ্রমের ফসল এবং নির্মিত কাঠামোকে যৌথ জীবনের পটভূমি হিসেবে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গি দোশীজি শিখিয়েছিলেন, তারই এক আন্তরিক প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মর্যাদাপূর্ণ ‘দ্বিতীয় প্রবীর মিত্র মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান পর্ব। প্রখ্যাত স্থপতি প্রবীর মিত্রের স্মরণে প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি এমন এক প্রতিশ্রুতিশীল স্থপতিকে দেওয়া হয়, যাঁর কাজে নকশাগত উৎকর্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মপদ্ধতির ছাপ থাকে। এ বছরের পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন ‘কিউএক্স ডিজাইন’ (QX Design)-এর প্রধান স্থপতি ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা উদিত মিত্তাল। স্থপতি অবিন চৌধুরী, বিবেক সিং রাঠোর, পৃথ্বীজিৎ কুণ্ডু, পার্থ রঞ্জন দাস এবং সুবীর কুমার বসুর সমন্বয়ে গঠিত এক বিশিষ্ট বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে তাঁকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ স্থপতি রাজীব কাঠপালিয়া এবং রাধিকা দোশী। প্রদর্শনীটি ২৩ অগাস্ট থেকে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘স্বভূমি’-র ‘কালাবাণী’-তে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।