“অনুমতি ছাড়াই স্কুলে জোর করে প্রবেশ!”-CJP নেতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে FIR

অনুমতি ছাড়াই একটি সরকারি বিদ্যালয়ে প্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং শিক্ষকদের ভয় দেখানোর অভিযোগে শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ। মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার একটি সরকারি উর্দু স্কুলে হাঙ্গামা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে CJP নেতা অভিজিৎ দীপক এবং তাঁর বেশ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় এক শিক্ষিকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
মুম্বই থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে, লাতুর জেলার আওসার সংলগ্ন জাভলি এলাকার একটি জেলা পরিষদ উর্দু স্কুলে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সিজেপি (CJP) নেতা অভিজিৎ দীপক ও তাঁর সঙ্গীরা ‘স্কুল ঠিক করো’ নামক একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি না নিয়েই তাঁরা সরাসরি বিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ক্লাস চলাকালীন পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে তাঁদের নানা প্রশ্ন করা হয়, যার ফলে স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং দৈনন্দিন সরকারি কাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।
স্কুলের শিক্ষিকা সৈয়দ শামশাদবানু খৈরাত আলির অভিযোগের ভিত্তিতে এই বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ভিডিয়ো রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর অভিযোগ
স্কুলে অনধিকার প্রবেশের পাশাপাশি পুরো ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ড করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারিণীর দাবি, ওই ভিডিয়োটির মাধ্যমে বিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা প্রচার করা হয়েছে। এমনকী, স্কুলের আসল পরিকাঠামো বা অব্যবস্থার চিত্র ঢাকতে অন্য একটি স্কুলের পড়ুয়াদের এনে ক্লাসে বসানো হয়েছিল বলেও কটূক্তি করা হয়। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি, কর্তব্যরত শিক্ষকদের বরখাস্ত করানোর হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
কোন কোন ধারায় মামলা?
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত CJP নেতা অভিজিৎ দীপক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৩২, ৩২৯(৩), ৩৫১(২) এবং ৩৫৬(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।