রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে ঘটা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড এবার নতুন এক মোড় নিল। এতদিন যা ছিল কেবল ‘ভোট পরবর্তী হিংসার’ অভিযোগ, বারাকপুরের হেভিওয়েট বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের একটি মন্তব্যে তা এখন সরাসরি শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের দরজায় পৌঁছে গেল। এই নৃশংস খুনের ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, এটি নিছক কোনো অপরাধ নয়, বরং শার্পশ্যুটার লাগিয়ে করা এক ‘ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত খুন’।
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্জুন সিং বলেন, “চন্দ্রনাথ রথকে যেভাবে মারা হয়েছে, তা সাধারণ কোনো গুন্ডার কাজ হতে পারে না। এই খুনের ধরণ বলছে, এটি কোনো পেশাদার এজেন্সির দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শার্পশ্যুটারের কাজ।” অর্জুনের নিশানায় এবার উঠে এসেছে একদল পুলিশ আধিকারিকের নামও। তিনি অভিযোগ করেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ কিছু অসাধু পুলিশ আধিকারিক আছেন যারা এই ধরণের অপরাধমূলক কাজ পরিচালনা করেন। নির্বাচনে হেরে সরকার গড়তে না পারার হতাশা থেকেই পেশাদার খুনি ভাড়া করে চন্দ্রনাথের দেহ ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে।”
অর্জুন সিং এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি অতীতের কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মনে করে দেখুন, বছর কয়েক আগে অভিষেককে মঞ্চে যে যুবক চড় মেরেছিল, তাকেও সাত বছর পর ট্রাক পিষে মেরে ফেলা হয়েছিল। এমনকি কিষেনজিকে ব্যবহার করে ভোট জেতার পর তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চন্দ্রনাথের ঘটনাও সেই একই ছকে বাঁধা। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেফতার হতে বাধ্য।”
তদন্তকারীদের সূত্রে অর্জুনের এই ‘পেশাদার খুনি’ তত্ত্ব আরও জোরালো হচ্ছে। ফরেন্সিক এবং পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, হামলাকারীরা ‘গ্লক ৪৭এক্স’ (Glock 47X)-এর মতো অত্যাধুনিক ও দামী পিস্তল ব্যবহার করেছে। এই ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণত অভিজ্ঞ ও পেশাদার খুনিদের হাতেই দেখা যায়। বুধবার রাতে ৪টি মোটরবাইকে আসা হেলমেটধারী দুষ্কৃতীরা যে নিখুঁত নিশানায় ১০ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে, তা কোনো অপেশাদার লোকের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে অর্জুন সিংয়ের এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং পরাজিত নেতার ‘কুৎসা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং ভাড়াটে খুনিদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে ৯ মে শপথ গ্রহণের আগে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার জল এখন কতদূর গড়ায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়ানোর পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





