টাকা দিয়েও মুক্তি নেই বিজ্ঞাপনের! অ্যামাজনের বিরুদ্ধে জোরালো আইনি পদক্ষেপ

টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন কেনার পরেও রেহাই নেই বিজ্ঞাপনের হাত থেকে। এই অভিযোগে এবার বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইম (Amazon Prime)-এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশন (ACCC)-এর দায়ের করা একটি মামলায় অ্যামাজন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও অনৈতিক ব্যবসায়িক নীতি অবলম্বনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত অ্যামাজনের প্রাইম ভিডিয়ো (Prime Video)-তে বিজ্ঞাপনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মটি গ্রাহকদের থেকে সাবস্ক্রিপশনের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার পরেও মাঝেমধ্যেই বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করছে। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞাপনমুক্ত অভিজ্ঞতার জন্য গ্রাহকদের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে, যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন লক্ষ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০২৫ সালের অগস্ট মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন ১০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক। ২০২৪ সালে অ্যামাজন প্রাইম তাদের পরিষেবাতে বিজ্ঞাপনের ধারা চালু করে। সমস্যাটি দেখা দেয় সেইসব গ্রাহকদের ক্ষেত্রে, যারা ইতিমধ্যেই বার্ষিক মেম্বারশিপের জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদান করেছিলেন। টাকা দিয়েও গ্রাহকরা যখন হঠাৎ তাদের প্রিয় শোগুলোর মাঝে বিজ্ঞাপন দেখতে শুরু করেন, তখন বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। যারা বিজ্ঞাপনহীন বিনোদন উপভোগ করতে চেয়েছিলেন, তাদের আবারও অতিরিক্ত ফি দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশনের দাবি, অ্যামাজন এইউ (Amazon AU) তাদের বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন চুক্তিতে একাধিক অনৈতিক শর্ত যুক্ত করেছে। বার্ষিক ৭৯ ডলার সাবস্ক্রিপশন ফি দেওয়ার পরেও, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে বিজ্ঞাপনমুক্ত শো দেখার জন্য গ্রাহকদের মাসে অতিরিক্ত ২.৯৯ ডলার গুনতে হয়েছে। প্রায় সাড়ে আট লক্ষ অস্ট্রেলীয় গ্রাহক যারা গোটা বছরের জন্য সাবস্ক্রিপশন নিয়ে রেখেছিলেন, তারা কার্যত এই নতুন নিয়মের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়েছেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে গ্রাহকদের একটি নিম্নমানের বা ‘ডাউনগ্রেড’ ভার্সন ব্যবহারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

শুধু বিজ্ঞাপনই নয়, অ্যামাজন প্রাইমের রিফান্ড পলিসি বা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নীতি নিয়েও উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন। অভিযোগকারী সংস্থার বক্তব্য, গ্রাহকদের কোনো ধরনের আগাম নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ না দিয়েই অ্যামাজন তাদের চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করেছে। এটি সরাসরি ভোক্তা অধিকারের লঙ্ঘন। লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই মানসিকতায় ক্ষুব্ধ রেগুলেটরি বডি।

এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রেক্ষিতে অ্যামাজন প্রাইমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটি এই আইনি লড়াইয়ে কীভাবে নিজেদের সাফাই গায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ঘটনাটি কেবল অস্ট্রেলিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে একই ধরনের ব্যবসায়িক নীতির কারণে অ্যামাজন প্রাইম যে প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, আইনি এই চাপ সামলাতে গিয়ে অ্যামাজন তাদের পলিসিতে কোনো বড়সড় বদল আনে কি না।