বিধানসভার ইতিহাসে বিরল ঘটনা! আচমকা সাসপেন্ড সিকিউরিটি অফিসার দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মার্শাল তথা সিকিউরিটি অফিসার দেবব্রত মুখোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে বিধানসভা সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিধানসভার দীর্ঘ ইতিহাসে এই ধরনের কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। বিধানসভার নির্দিষ্ট নিয়ম-রীতির পরিপন্থী কাজের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় তদন্তেরও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।
বিধানসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সম্প্রতি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে বিধায়কদের জন্য আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে মার্শাল হিসেবে দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের দায়িত্ব পালন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছিল। ওই বিশেষ কর্মসূচিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। এই সমস্ত ঘটনার পরেই বিধানসভার প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং মার্শালের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিধানসভা কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও বিস্তারিত সরকারি বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক নিয়ম-রীতিবিরোধী আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলির মধ্যে অন্যতম হলো কয়েকজন বিশিষ্ট বিধায়কের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ বা দুর্ব্যবহারের অভিযোগ। এই সমস্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে বলে বিধানসভা সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে। এদিকে, বিধানসভার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের একাধিক বিধায়ক এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে এত বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিধানসভা কর্তৃপক্ষের পুনরায় বিবেচনা করা উচিত ছিল। তবে এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের নিজস্ব কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।