টাকার দামে ঐতিহাসিক পতন! ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৮৮.৭-তে!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ভারতীয় টাকা (রুপি) মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। মার্কিন প্রশাসনের H1B ভিসার ফি হঠাৎ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়তেই রুপির দর নেমে দাঁড়ায় ৮৮.৭ টাকায়।
শেয়ারবাজারে ধস
রুপির এই পতনের পাশাপাশি ভারতীয় শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে বড় পতন। মঙ্গলবার সেনসেক্স ০.০৭ শতাংশ কমে ৮২,১০২ পয়েন্টে এবং নিফটি সূচক ০.১৩ শতাংশ কমে ২৫,১৯৭.৫০ পয়েন্টে নেমে আসে। এর ফলে আইটি, এফএমসিজি এবং প্রতিরক্ষা খাতের সূচকগুলো প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বুধবার সকালেও এই পতনের ধারা অব্যাহত ছিল।
কারণ কী?
এই পতনের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ:
মার্কিন নীতির প্রভাব: H1B ভিসার ফি বৃদ্ধি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের সতর্কবার্তা যে শেয়ারের দাম অনেক বেশি, তা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
দুর্বল PMI ডেটা: আগস্ট মাসের ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক (PMI) দুর্বল হওয়ায় ভারতীয় অর্থনীতিতে মন্থরতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়েছে।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা: ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাজেট পাস না হলে সরকারের কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রুপির এই রেকর্ড পতন আমদানির খরচ বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ ফেলতে পারে। যদি দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে না আসে, তবে আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ হ্রাস এবং শিল্প উৎপাদনে মন্থরতা দেখা যেতে পারে। সব মিলিয়ে ভারতীয় অর্থনীতি এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।