১৫টি গোপন বৈঠক, চিন-আমেরিকাকে টেক্কা! কীভাবে মোদীর মাস্টারস্ট্রোক বদলে দিল বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র?

দিল্লির মাটিতে সফলভাবে সম্পন্ন হলো ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারতের নেতৃত্বে আয়োজিত এই তিন দিনের বিশ্বমঞ্চে রচিত হলো নতুন কূটনৈতিক ইতিহাস। যেখানে একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতে জর্জরিত ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে একই টেবিলে বসাতে সফল হয়েছে ভারত, অন্যদিকে চিন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোও ভারতের কৌশলগত প্রভাব এবং নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। ব্রিকসের এই মেগা আয়োজনে ভারতের সভাপতিত্ব বিশ্ব রাজনীতিতে দেশের অবস্থানকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল এই সম্মেলনের মূল আকর্ষণ। সম্মেলনের আগের দিন থেকে শুরু করে সমাপ্তি পর্যন্ত টানা তিন দিনে তিনি ১৫টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। বিশেষ করে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ২০২০ সালের সীমান্ত উত্তেজনার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে বিরাট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং তাঁদের একসঙ্গে গাড়িতে ভ্রমণের দৃশ্য বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত জোরালো প্রতীকী বার্তা পাঠিয়েছে। পুতিন এই মঞ্চ থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্মেলনের শেষে সর্বসম্মতিক্রমে যে ‘নয়া দিল্লি ঘোষণা’ জারি করা হয়েছে, তাতে বিশ্ব রাজনীতির একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় উঠে এসেছে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি সমস্ত সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন শুল্ক ও একতরফা অর্থনৈতিক চাপের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছে ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলো। এছাড়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে যৌথ ঘোষণাপত্রেই পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘে সংস্কারসহ ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে ভারত। সবমিলিয়ে, এই সম্মেলন বিশ্বমঞ্চে ভারতের অখণ্ড নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক দক্ষতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।