বেসিক পে ১৮ হাজার থেকে থেকে বেড়ে ৬৯,০০০ টাকা? অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে জেন নিন আসল সত্যিটা

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার আগেই ন্যূনতম বেতন ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধি নিয়ে বড়সড় দাবি পেশ করা হয়েছে। চেন্নাইতে অষ্টম বেতন কমিশনের প্রতিনিধি দল এবং বিভিন্ন কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠনের সাম্প্রতিক বৈঠকে অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ পেনশনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনস ন্যূনতম বেসিক বেতন ৬৯,০০০ টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। ৩.৮৩-এর ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে এই দাবি জানানো হয়েছে। তবে এটি এখনও পর্যন্ত কেবল বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাবিত দাবি মাত্র, এর নেপথ্যে কোনো চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদন নেই।

কর্মচারী সংগঠনগুলির যুক্তি অনুযায়ী, বর্তমান বাজারে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং পারিবারিক খরচ যেভাবে বাড়ছে, তা মেলাতেই এই উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। সপ্তম বেতন কমিশনের সময় সর্বনিম্ন বেতন ১৮,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করলে অঙ্কটি ৬৯,০০০ টাকায় দাঁড়ায়। শুধু একটি একক সংগঠন নয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ দ্য জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM), AIDEF, FNPO-র মতো একাধিক সংগঠন এই একই দাবি তুলেছে। এমনকি বিপিএমএস (BPMS) চারগুণ অর্থাৎ ৭২,০০০ টাকা ন্যূনতম বেতনের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন স্তরে ২.৯২ থেকে ৪.৩৮ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের প্রস্তাব পেশ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের হিসাব দিয়েই কর্মচারীদের মোট আয় অনুমান করা সম্ভব নয়। ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এর সঙ্গে যুক্ত থাকে। অতীতের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, সপ্তম বেতন কমিশনের সময় এনসি-জেসিএম ৩.৭১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি করলেও সরকার শেষ পর্যন্ত ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুমোদন করেছিল। ফলে কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি এবং সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মধ্যে ফারাক থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

গত ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী কমিশনকে ১৮ মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হয়, যার মধ্যে প্রায় ১০ মাস ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত হয়েছে। বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন এই কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট আগামী ২০২৭ সালের মে থেকে জুনের মধ্যে জমা পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত কর্মচারীদের প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি বা নতুন কাঠামো দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।