টলিউডে প্রায়ই শোনা যায় ‘ব্যান’ করার কথা। কখনও কোনো পরিচালককে কাজে বাধা দেওয়া, কখনও বা কোনো টেকনিশিয়ানকে বয়কট করা—এই সংস্কৃতি ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির পথে বারবার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাহুল মুখোপাধ্যায়ের (পরিচালক) কাজ করা নিয়ে ফেডারেশনের সঙ্গে যে বিবাদ দানা বেঁধেছিল, তা কার্যত টলিপাড়াকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছিল। কিন্তু সেই জটিল জট কাটল সুপারস্টার দেবের উপস্থিতিতে।
কীভাবে মিটল বিবাদ? সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে ফেডারেশন এবং ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে চলা ঠান্ডা লড়াই চরম রূপ নিয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শুটিং বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ঠিক সেই সময় ময়দানে নামেন দেব।
মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা: দেব নিজে উদ্যোগী হয়ে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এবং ক্ষুব্ধ পরিচালক-প্রযোজকদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন।
ব্যক্তিগত ইগো বর্জন: দেব স্পষ্ট জানান যে, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের ইগোর লড়াইয়ের জন্য হাজার হাজার টেকনিশিয়ানের রুটিরুজি বিপন্ন হতে পারে না। তিনি দুই পক্ষকেই নমনীয় হওয়ার অনুরোধ জানান।
ব্যান সংস্কৃতির ইতি: দেবের যুক্তি ছিল, ভুলভ্রান্তি হলে আলোচনার মাধ্যমে মেটানো হোক, কিন্তু সরাসরি কাউকে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া বা ‘ব্যান’ করা কাম্য নয়। তাঁর এই যুক্তি মেনে নেয় সব পক্ষই।
কোন জাদুতে বাজিমাত? আসলে দেবের এই ‘জাদু’ হলো তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। তিনি কেবল একজন অভিনেতা বা প্রযোজক নন, শাসক দলের সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি স্তরের মানুষের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। দেবের আশ্বাসের পরেই রাহুল মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে চলা বিবাদ স্তিমিত হয় এবং ফেডারেশন তাঁদের কড়া অবস্থান থেকে সরে আসে।
ইন্ডাস্ট্রির প্রতিক্রিয়া: পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়—অনেকেই দেবের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, টলিউড এখন যে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকাটা খুব জরুরি ছিল। দেব প্রমাণ করে দিলেন, কেন তাঁকে ইন্ডাস্ট্রির ‘ম্যাচিউর’ নেতা বলা হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো শিল্পীকে বা পরিচালককে এমন হেনস্থার মুখে পড়তে না হয়, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন দেব। যেখানে আইনি জটিলতা বা নিয়মের ফাঁসে কেউ কারোর কাজ করার অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না।





