ঝেঁপে বৃষ্টিতে কার্যত অচল কলকাতা! শিয়ালদা থেকে আর জি কর, জলমগ্ন শহরের রাজপথ

রবিবার ছুটির সকালের আমেজ কার্যত ধুয়ে গেল ঝেঁপে আসা প্রবল বৃষ্টিতে। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু করে সংলগ্ন জেলাগুলোতেও দুর্যোগের দাপট দেখা গেছে। দীর্ঘক্ষণের ভারী বর্ষণে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন জলজমা সমস্যার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে ঝোড়ো হাওয়ার জেরে উপড়ে পড়েছে গাছ, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা চাঁদনি চকে রাস্তার পাশের রেলিং ভেঙে বিশাল একটি গাছ উপড়ে রাস্তায় আছড়ে পড়েছে। এর ফলে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের একটি দিকের যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। দুর্যোগের কবলে পড়েছে জনস্বাস্থ্য পরিষেবাও; আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চত্বরে জল জমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে রোগীদের পরিবারকে। জমা জলের মধ্য দিয়েই ট্রলি ঠেলে রোগীদের নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে তাঁদের। শহরের শিয়ালদা, কাঁকুড়গাছি-সহ একাধিক এলাকা জলমগ্ন হওয়ায় যান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। যদিও ছুটির দিন হওয়ার কারণে রাস্তায় গাড়ির চাপ তুলনায় কম, তবুও জলজমা এবং গাছ পড়ার কারণে বেশ কিছু জায়গায় যানজট তৈরি হয়েছে।

শুধু কলকাতাই নয়, ঝড়বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির রাস্তাঘাটও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হাওড়া জেলায় ‘হলুদ সতর্কতা’ (Yellow Alert) জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরে, সেখানে জারি হয়েছে ‘কমলা সতর্কতা’ (Orange Alert)। গত শুক্রবারের ঝড়বৃষ্টির ধকল সামলে ওঠার আগেই রবিবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ শহরের নিকাশি ব্যবস্থাকে আরও একবার চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল।

তবে এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে পুরসভার কর্মীদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। গাছ ভেঙে পড়ার কারণে রাস্তা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরসভার কর্মীরা দ্রুত গাছ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। জমা জল নামানোর জন্য পাম্পিং স্টেশনগুলোতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পুরসভার পক্ষ থেকে দ্রুত রাস্তাঘাট সচল করার চেষ্টা চলছে। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির এই ধারা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে, তাই নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।