ঝাড়খণ্ড থেকে বঙ্গে গাঁজার বিশাল চালান! আসানসোলে পুলিশের জালে পাচারচক্রের বিপুল মাদক

পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সীমান্ত দিয়ে চলা মাদক পাচারের ছক শেষ মুহূর্তে বানচাল করে দিল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এক দুঃসাহসিক অভিযানে শুক্রবার গভীর রাতে কল্যাণেশ্বরী এলাকা থেকে ১০৪ কিলোগ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই ঝাড়খণ্ড-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত নাকা তল্লাশির পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের কড়া নজরদারি চলছিল। এরই মধ্যে পুলিশের কাছে খবর আসে, ঝাড়খণ্ড থেকে একটি গাড়িতে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা পশ্চিমবঙ্গে ঢোকানো হচ্ছে। সেই খবরের ভিত্তিতেই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ এবং সালানপুর থানার কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ যৌথভাবে কল্যাণেশ্বরী লেফট ব্যাঙ্ক এলাকায় নাকা তল্লাশি শুরু করে।
গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে একটি ঝকঝকে নতুন চারচাকা গাড়ি আসতে দেখে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সন্দেহ হয়। গাড়িটির সামনে বা পিছনে কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না। পুলিশ গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দিতেই চালক আচমকা গাড়ি ফেলে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয়। এরপরই গাড়িটিতে তল্লাশি শুরু হয়। তল্লাশিতে দেখা যায়, গাড়ির ভেতরে সুবিন্যস্তভাবে ১০০টি প্যাকেটে মোট ১০৪ কিলোগ্রাম গাঁজা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি ও মাদক বাজেয়াপ্ত করে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গাড়ির আসল মালিক বা পাচারচক্রের পরিচয় গোপন রাখতেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই নতুন ও নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া এই বিশাল পরিমাণ মাদক কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত, সেই রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পিছনে একটি সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে বলেই পুলিশের বিশ্বাস।
বর্তমানে পুলিশ বাজেয়াপ্ত গাড়িটির মালিকানা যাচাই করছে। ঘটনার মোড় ঘোরাতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে পলাতক চালকের পরিচয় শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি, মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিশনারেটের কর্তারা জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্তকে করিডর হিসেবে ব্যবহার করে মাদক পাচারের যে ঘৃণ্য প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা রুখতে আগামী দিনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে এই চক্রের মূল হোতাদের কব্জা করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। ১০৪ কিলোগ্রাম গাঁজা উদ্ধার সাম্প্রতিক সময়ে কমিশনারেটের অন্যতম বড় সাফল্য হলেও, পাচারচক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খুঁজে বের করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।