আইনি স্বস্তির মাঝেই আমতলায় বড় ধাক্কা! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ঘিরে মোতায়েন পুলিশ ও বুলডোজার!

একদিকে যখন বিধানসভায় সই জাল মামলার আইনি জটিলতায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই আমতলায় তাঁর ব্যক্তিগত ও দলীয় কার্যালয় নিয়ে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়টি ঘিরে ফেলেছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুধু তাই নয়, কার্যালয়টির সামনে বুলডোজার নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, আমতলার এই কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং কোনো অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের তরফে শুনানির জন্য জোড়া নোটিস পাঠানো হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই শুক্রবার হঠাৎ করেই কার্যালয়ের সামনে সশস্ত্র পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কার্যালয়ের বাইরে বুলডোজার প্রস্তুত রাখায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, প্রশাসনিক নির্দেশে খুব শীঘ্রই কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এই প্রশাসনিক সংঘাতের ঠিক উল্টো দিকে, আইনি লড়াইয়ে বড় সাফল্য পেলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত চিঠিতে একাধিক বিধায়কের সই জাল করার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি সরগরম ছিল। এই সই জাল মামলার তদন্তের জন্য সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস পাঠিয়েছিল। সিআইডি-র সেই নোটিস ও মূল এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি চন্দ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, আগামী এক মাস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আদালতের এই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ অভিষেককে সাময়িক স্বস্তি দিলেও, আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছে। বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি-র তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে, এফআইআর খারিজের আবেদন প্রসঙ্গে আগামী সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে আদালতে তাদের অবস্থান হলফনামা দিয়ে স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একদিকে আমতলার কার্যালয়কে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক বুলডোজারের ভয়, অন্যদিকে হাইকোর্টের রক্ষাকবচে আইনি স্বস্তি— অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এই জোড়া পরিস্থিতির সমীকরণ এখন অত্যন্ত জটিল। আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টে রাজ্যের হলফনামা জমা পড়ার পর এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয় এবং আমতলার কার্যালয় নিয়ে জেলা প্রশাসন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।