দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! জাপানে দুর্দান্ত ফর্মে পিভি সিন্ধু, টানা দুই বছর পর পৌঁছালেন ফাইনালে

ব্যাডমিন্টন কোর্টে আবারও চেনা ছন্দে পিভি সিন্ধু। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় পর কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিলেন ভারতের এই তারকা শাটলার। শনিবার জাপান ওপেন ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের মহিলা এককের সেমিফাইনালে জাপানের প্রতিপক্ষ তোকিও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন চেন ইউফেইয়ের বিপক্ষে লড়ছিলেন সিন্ধু। ম্যাচ চলাকালীন চেন ইউফেইয়ের মাংসপেশিতে চোটের কারণে তিনি মাঝপথেই কোর্ট ছেড়ে বেরিয়ে গেলে জয়ী ঘোষিত হন সিন্ধু।

ম্যাচটি যখন শেষ হয়, তখন স্কোরবোর্ড অনুযায়ী পিভি সিন্ধু প্রথম গেমে ২১-১৯ পয়েন্টে এবং দ্বিতীয় গেমে ১৫-১০ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। চেন ইউফেইয়ের এই দুর্ভাগ্যজনক বিদায় ভারতের জন্য ফাইনালের দরজা খুলে দিল। লখনউতে আয়োজিত সৈয়দ মোদি ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টের পর এটিই সিন্ধুর প্রথম ফাইনাল ম্যাচ। এর আগে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া ওপেন সুপার ৫০০ টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলেও অল্পের জন্য শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল তার। সর্বশেষ ২০২২ সালে সিঙ্গাপুর ওপেন সুপার ৫০০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি। সেই জয়ের স্বাদ দীর্ঘ দিন পর আবারও পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে সিন্ধুর সামনে।

ম্যাচের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় পিভি সিন্ধু অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও আনন্দিত ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সত্যিই আনন্দিত যে আমি ফাইনালে পৌঁছাতে পেরেছি। আমার জন্য প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আজকের সেমিফাইনালটি ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে খেলার সময় প্রতিটি পয়েন্টই অত্যন্ত মূল্যবান, তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা খুব জরুরি ছিল।”

নিজের খেলার কৌশল সম্পর্কে সিন্ধু আরও বলেন, “আমি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলাম এবং আমার কোচ আমাকে বারবার মনোযোগ ধরে রাখার কথা বলছিলেন। প্রথম গেমের শুরুর দিকে আমি অনেকটা এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষ খুব দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে আসছিল। সেই মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রাখা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাটা খুব জরুরি ছিল। অনেক সময় ভালো খেলার পরেও ছোট ছোট ভুলে পয়েন্ট হারিয়ে ফেললে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই মানসিক লড়াইটা চালিয়ে যাওয়াই ছিল আজকের প্রধান কাজ।”

রবিবার ফাইনাল ম্যাচে সিন্ধুর মুখোমুখি হতে চলেছেন অন্য সেমিফাইনালের জয়ী প্রতিযোগী—জাপানের আকানে ইয়ামাগুচি অথবা ইন্দোনেশিয়ার পুত্রি কুসুমা ওয়ারদানি। ফাইনালে জয়ী হয়ে খরা কাটাতে মরিয়া পিভি সিন্ধু। তার এই অদম্য লড়াই এবং ধারাবাহিকতা ভারতীয় ব্যাডমিন্টন প্রেমীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অলিম্পিক পদক জয়ী এই শাটলারের নতুন এই সাফল্যের অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ।