জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে তেজোদীপ্ত হুঙ্কার! পাটনায় রাজভবন অভিযানের পরই গ্রেফতার তেজস্বী যাদব!

পাটনার রাজপথে ফের একবার আছড়ে পড়ল রাজনৈতিক উত্তেজনার ঢেউ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণের জোরালো দাবিতে বৃহস্পতিবার পাটনায় রাজভবন অভিমুখে বিশাল ‘আক্রোশ মার্চ’ বা বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয় বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের সরাসরি নেতৃত্বাধীন এই মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি বাধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ মিছিলটি আটকে দেয় এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে উদ্যত হয়। এই ঘটনায় তেজস্বী যাদব সহ রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD)-এর একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও বিধায়ককে আটক করা হয়েছে।

বিরোধীদের প্রধান ও স্পষ্ট দাবি হলো, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে সরাতে হবে। এর পাশাপাশি, বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্বচ্ছ জবাবদিহিতার দাবি তুলেছে ইন্ডিয়া ব্লক। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিহারে ফের নতুন করে নির্বাচন করার দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন বিরোধীরা।

রাজভবন অভিযান শুরু হওয়ার আগে বিধানসভা গোলম্বর এলাকায় এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চরম আক্রমণ শানান তেজস্বী যাদব। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যৌথভাবে ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে পঙ্গু ও দুর্বল করে দিয়েছেন। তেজস্বীর জোর দাবি, নির্বাচনে পূর্বপরিকল্পিত কারচুপির মাধ্যমে বিজেপির ক্ষমতায় আসার মসৃণ রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর মতে, এই সমস্ত অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের কালো সত্য প্রকাশ্যে আসার পরই দেশের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে সমস্ত বিরোধী দল একছাতার তলায় এসে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

নির্বাচনী ময়দানে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ সুনিশ্চিত করার পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেছেন তেজস্বী। তাঁর সাফ কথা, একটি সম্পূর্ণ অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই শক্তিশালী গণতন্ত্রের মূল ও একমাত্র ভিত্তি। তাই নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট কাজকর্ম নিয়ে যে হাজারো প্রশ্ন উঠেছে, তার সন্তোষজনক ও স্পষ্ট উত্তর কমিশনকে দিতেই হবে।

উল্লেখ্য, বিরোধীদের এই তীব্র আন্দোলন শুধুমাত্র একদিনের কোনো আকস্মিক কর্মসূচি নয়। গত বুধবার থেকেই গোটা বিহারজুড়ে ‘জ্ঞানেশ হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেছে ইন্ডিয়া জোট। রাজ্যের মোট ৫৩৪টি ব্লকে একযোগে বিক্ষোভ এবং কুশপুতুল পোড়ানোর কর্মসূচি পালন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বৃহস্পতিবার সমস্ত জেলা সদরে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি রাজধানী পাটনায় রাজভবন অভিযানের এই রূদ্ধশ্বাস ডাক দেওয়া হয়েছিল।

মূলত দুটি জ্বলন্ত ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই লাগাতার আন্দোলন আবর্তিত হচ্ছে—প্রথমত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং দ্বিতীয়ত, বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়ায় শাসকদলের কারচুপির আশঙ্কা। বিরোধীদের অভিযোগ, এই সমস্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক ধোঁয়াশা থাকলেও নির্বাচন কমিশন কোনো সদুত্তর দিচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে এই ধারাবাহিক প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তারা বিহারে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে। বৃহস্পতিবারের এই রাজভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই চরম সতর্কতা অবলম্বন করেছিল পাটনা পুলিশ। শহরের বিভিন্ন সংবেদনশীল মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ পুলিশ বাহিনী। তবে তেজস্বী যাদব সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে পুলিশের পক্ষ থেকে আটক করার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।