পুকুরে সত্যি জলপরী! নরসিংদীর এই ঘটনায় রাতারাতি যা কাণ্ড ঘটল, জানলে চোখ কপালে উঠবে!

মারমেইড বা মৎস্যকন্যা নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের আগ্রহের যেন অন্ত নেই। শেক্সপিয়ারের সাহিত্য থেকে শুরু করে ডিজনির নাটক ও চলচ্চিত্রে যেমন মৎস্যকন্যার উপস্থিতি প্রায় নিয়মিত, তেমনি বিশ্বের নানা দেশের লোককথাতেও রয়েছে জলপরীর অস্তিত্ব। বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশের কোথাও জলপরী, কোনো দেশে মারমেইড, কোথাও মাদার অফ ওয়াটার বা জলের মা, আবার কোনো কোনো জায়গায় এটি সাইরেনসহ নানা নামে পরিচিত। মৎস্যকন্যা বা জলপরীর রূপকথার সাথে পরিচিত নন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াও হয়তো দুষ্কর।
সম্প্রতি বাংলাদেশের নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একটি গ্রামের পুকুরে ‘জলপরী’র দেখা মিলেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। চার-পাঁচ দিন ধরে আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকেও শত শত কৌতূহলী মানুষ পুকুরটিকে ঘিরে ভিড় জমাতেন। এই গুজবকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের নানা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। গুজব ছড়ানোর এই ঘটনায় একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে সতর্ক করে মুচলেকাও নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পুকুরটির মালিক কবির আহমেদ ভুঁইয়া জানান, সেখানে রুই, কাতলা, তেলাপিয়াসহ দেশি নানা জাতের মাছ চাষ করা হয়। মূলত একটি ভিডিওতে পানির উপরিভাগে কালো অবয়বের কিছু সাঁতার কাটার দৃশ্য দেখার পরই এই গুজবের শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসন পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরে এবং নিশ্চিত করে যে মাছের ঝাঁক একসঙ্গে চলার কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।
কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও মানুষ মারমেইড বা জলপরীর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। যদিও সমুদ্র বিজ্ঞানী এবং প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণায় এটি পুরোপুরি মিথ বলে প্রমাণিত। ইংরেজি মারমেইড শব্দটি ‘মিয়ার’ (সমুদ্র) এবং ‘মেইড’ (মেয়ে বা যুবতী) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। মৎস্যকন্যা বা মারম্যান হলো এমন অলৌকিক প্রাণী, যাদের গান শুনতে ভালোবাসার কথা লোককথায় প্রচলিত রয়েছে। নাবিকদের লোককথায় জলপরী সৌভাগ্য এবং অমঙ্গল উভয়েরই প্রতীক। কিছু সংস্কৃতিতে इन्हें উর্বরতার প্রতীক ভাবা হলেও, অনেকের মতেই জলপরীর দেখা পাওয়া জাহাজডুবির অশুভ লক্ষণ।
হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে জলপরীর গল্প প্রচলিত রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মেসোপটেমীয় রূপকথায় পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো পুরুষ মৎস্যদেবতার সন্ধান পেয়েছেন। এছাড়া প্রাচীন গ্রিক মহাকবি হোমার থেকে শুরু করে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন সভ্যতায় মারমেইডের নানা রূপ যেমন—মামি ওয়াটা, সাইরেন, রুসালকি, মেলুসিনা এবং সুবর্ণমচ্ছা ইত্যাদি প্রচলিত রয়েছে। আঠারো শতকে হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসেনের ‘দ্য লিটল মারমেইড’ বিশ্বজুড়ে জলপরীর গল্পকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক না কেন, রূপকথার এই জলপরীকন্যাকে নিয়ে মানুষের রোমাঞ্চ ও কৌতূহল যুগ যুগ ধরে একইরকমভাবে টিকে রয়েছে।